ঢাকা | আগস্ট ২৫, ২০২৬ - ৬:৫২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিকের মালিকের বিরুদ্ধে নার্সকে মারধরের অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, August 23, 2026 - 4:16 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 21 বার

স্নিগ্ধা খন্দকার,পঞ্চগড় প্রতিনিধি:পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ স্কয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে এক নার্সকে মারধর ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ক্লিনিকের রিসেপশন ফ্লোরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নার্স কলি রায়।

কলি রায় জানান, গত ২০ জুলাই তিনি ওই ক্লিনিকে নার্স হিসেবে যোগ দেন। রোববার সকালে কুলসুম নামে এক নারী ক্লিনিকে ভর্তি হন। দুপুর ১২টার দিকে তার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অপারেশনের পর নবজাতকের জন্য ডায়াপার ও কে-ওয়ান ইনজেকশন এবং প্রসূতির জন্য বেল্ট, ব্যথানাশক ভলটালিন ইনজেকশন ও ন্যাপকিনের প্রয়োজন হয়। এসব সামগ্রী ক্লিনিকে ‘প্যাকেজ’ হিসেবে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

কলির অভিযোগ, এসব সামগ্রী বাইরে থেকে তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ থাকলেও রোগীর স্বজনদের ক্লিনিক থেকেই সেগুলো কেনার জন্য নার্সদের ওপর চাপ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, রোববার কুলসুমের স্বজনেরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্লিনিক পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুল ক্ষুব্ধ হন এবং কেন বাইরে থেকে এসব সামগ্রী কেনা হয়েছে, তা নিয়ে তার সঙ্গে রাগারাগি করেন। এ সময় বাবুলের ছোট মেয়ে স্নেহাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন কলি।

কলি রায় আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল তার মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করেন। পরে তিনি ক্লিনিকের দ্বিতীয় তলায় গেলে সেখানে বাবুলের মেয়ে ও চিকিৎসক ডা. শিখা মনি তার সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে কথা বলেন। এ সময় তাকে পরদিন থেকে ক্লিনিকে না আসতেও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কলি রায় বলেন, পাওনা বেতন পরিশোধ করে দিলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক ও পরিচালক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নার্সের করা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ভুক্তভোগী নার্সকে আইনের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে ক্লিনিকে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো দায়িত্ব রয়েছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, এর আগেও ক্লিনিকটির মালিক শহিদুল ইসলাম বাবুল ও তার মেয়ে ডা. শিখা মনির রূঢ় আচরণের কারণে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েকজন নার্স চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।