ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ - ৯:১৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

তিন নম্বর ইটের খোয়ায় চলছে দায়সারা কাজ মোহনপুর-তানোর সংযোগ সড়ক নির্মাণে চরম অনিয়ম

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, September 3, 2026 - 1:09 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 36 বার

সোহানুল হক পারভেজ, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান: রাজশাহীর মোহনপুর ও তানোর উপজেলার লাখো মানুষের বহু প্রতীক্ষিত সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণের কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্ভোগ লাঘবের আশায় সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিন নম্বর ইটের নিম্নমানের খোয়া, মানহীন বালু ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণপদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে শুরুতেই তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আরডিআইআরডব্লিউএসপি (RDIRWSP) প্রকল্পের আওতায় ‘ওয়াইডেনিং অ্যান্ড স্ট্রেন্থেনিং ওয়ার্কস অব সইপাড়া আরঅ্যান্ডএইচ গোল্লাপাড়া (আপ টু তুলশী ক্ষেত্র)’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে এ কাজ চলছে। মোহনপুর উপজেলার সইপাড়া থেকে তানোরের গোল্লাপাড়া সীমানা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি প্রায় ১৮ ফুটে প্রশস্ত করা হচ্ছে। সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে।সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরু থেকেই সড়কটিতে নির্ধারিত মান বজায় না রেখে দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বেজ ও সাব-বেজের কাজে নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী এক নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে প্রকাশ্যে ফেলা হচ্ছে ভঙ্গুর ও অত্যন্ত নিম্নমানের তিন নম্বর ইটের খোয়া। অনেক স্থানে মাটির সঙ্গে আধলা ও গুঁড়ো খোয়া মিশিয়ে রোলার দিয়ে চেপে দেওয়া হচ্ছে, যা সামান্য বৃষ্টিতেই দেবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া সড়কের পাশের ড্রেন, কালভার্ট ও ব্রিজের রিইনফোর্সমেন্ট এবং প্লাস্টারিংয়ের কাজেও প্রয়োজনীয় পরিমাণের তুলনায় কম সিমেন্ট ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলছেন এলাকাবাসী।স্থানীয়রা জানান, দুই উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা, উচ্চশিক্ষা এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে তানোরের আলু, ধান ও সবজি দ্রুত রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌঁছানোর জন্য এটি প্রধান পথ। অথচ ঠিকাদারি সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের উপাদান দিয়ে কাজ শেষ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার খোয়া-বালু ধুয়ে পাশের পুকুর ও খাদে নেমে যাওয়ার ঘটনায় কাজের চরম দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে তিন নম্বর ইটের খোয়া দিয়ে কাজ চললে পিচ ঢালাইয়ের পরপরই ভারী যানবাহনের চাপে সড়কটি আবারও খানাখন্দে পরিণত হবে এবং জনদুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নেবে।এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, অনিয়ম এড়াতে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। তবে নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ এবং শিডিউল মাফিক কাজের মান নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও দায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।