ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ - ৮:৩২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পদুয়া ইউপি নির্বাচন: মেম্বার পদে বারবার জয়, এবার চেয়ারম্যানের মিশনে শাব্বির আহমদ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, September 3, 2026 - 1:07 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 13 বার

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ককে পুঁজি করে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও পদুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিকবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য মো. শাব্বির আহমদ।

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত শাব্বির আহমদ দলের দুঃসময়ে মামলা-হামলার শিকার হয়েও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি তাদের।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি হিসেবেও রয়েছে শাব্বির আহমদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। ২০১১ সাল থেকে পদুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ তাকে বারবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত করে আসছেন বলে তিনি জানান। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার বৃহত্তর পরিসরে মানুষের সেবা করতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তিনি।

ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, গণসংযোগ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে নিজের প্রার্থিতার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন শাব্বির আহমদ। তার সমর্থকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাকে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছে।

শাব্বির আহমদ বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। দলের দুঃসময়ে মামলা-হামলার শিকার হয়েও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে ছিলাম। নানা প্রতিকূলতা ও চাপের মধ্যেও দলীয় আদর্শ থেকে সরে যাইনি। রাজনীতি আমার কাছে শুধু পদ-পদবির বিষয় নয়; মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, পদুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ ২০১১ সাল থেকে আমাকে বারবার তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। তাদের এই আস্থা ও ভালোবাসা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সমস্যা খুব কাছ থেকে দেখেছি। এখন সুযোগ পেলে চেয়ারম্যান হিসেবে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই।

চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

শাব্বির আহমদ বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করব। ইউনিয়ন পরিষদকে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।

তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি অসহায়-দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রাপ্তি সহজ করা এবং ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাব্বির আহমদ দলের কঠিন সময়ে মামলা-হামলার মুখেও দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। একাধিকবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়ও তার জনসম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি দলীয় নেতাকর্মীদের।

স্থানীয় কয়েকজন ভোটার জানান, দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় শাব্বির আহমদ এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। বিভিন্ন সময়ে মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার কারণে অনেকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগও রয়েছে। তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করলে পদুয়ার ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

তবে চেয়ারম্যান পদে তার প্রার্থিতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী পরিবেশ ও ভোটারদের সমর্থনের ওপর। এরই মধ্যে প্রার্থিতার আভাস দিয়ে মাঠে সক্রিয় হওয়ায় পদুয়া ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, একাধিকবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এই তিন শক্তিকে সামনে রেখে এবার চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মো. শাব্বির আহমদ। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা তার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।