ঢাকা | নভেম্বর ২, ২০২৬ - ১২:১২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মসহ নানা অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, September 17, 2026 - 5:44 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 73 বার

স্নিগ্ধা খন্দকার, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:পঞ্চগড় সদর উপজেলার যতনপুকুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মঞ্জুআরা বেগমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়া, বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমে অনিয়ম এবং অভিযোগের জবাব চাইতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম ও জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পঞ্চগড় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত গণঅভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়ার পরও তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই প্রধান শিক্ষিকা মঞ্জুআরা বেগমের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী মিয়ার কাছে লিখিত গণঅভিযোগ দেন এলাকাবাসী। পরে অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলামকে। তিনি জানান, বিদ্যালয় পরিদর্শন করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত না হওয়ায় গত ১১ আগস্ট আবারও পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত গণঅভিযোগ দেন বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। ওই অভিযোগে অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমে অনিয়ম, নিয়মিত প্রাত্যহিক সমাবেশ না করা, জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ ব্যয়েও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। বিদ্যালয় পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে বিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে প্রধান শিক্ষিকা মঞ্জুআরা বেগম বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দিয়ে এককভাবে বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থ ব্যয় করতেন। তাঁর অভিযোগ, বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যান মেরামত ও কেনা, বিভিন্ন জাতীয় দিবসের বরাদ্দ এবং খেলাধুলার সামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়ম করা হয়েছে।

সাদেকুল ইসলামের দাবি, কম দামে ফ্যান ও ক্রীড়া সামগ্রী কেনার পর বেশি দামের ভাউচার তৈরি করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবসের বরাদ্দের অর্থ ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, প্রধান শিক্ষিকা দীর্ঘদিন এভাবে দায়িত্ব পালন করলে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা মঞ্জুআরা বেগম। তিনি বলেন, তাঁর স্বামীর ভাইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত লেনদেনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তিনি বলেন, আমি আমার জায়গায় শতভাগ ঠিক আছি। কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম করিনি। অন্যায়ভাবে কোনো শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্রও দিইনি।