ওয়াশিংটন পোস্ট ও পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগর ও একটি হ্রদের নাম পরিবর্তনের পর এবার একটি নদী ও মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়েও ভাবা যেতে পারে। তবে হাডসন নদীর নাম পরিবর্তন করতে চান না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের যেকোনো একটির নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকা মহাসাগর’ রাখা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্যের সময় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসি ও করতালির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা
ট্রাম্প এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ (Gulf of America) হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দেন। পরে ২০২৬ সালের আগস্টে অন্টারিও হ্রদের নাম ‘লেক আমেরিকা’ (Lake America) করার উদ্যোগও নেন।
এ ছাড়া আলাস্কার সর্বোচ্চ পর্বতের সরকারি নাম ডেনালি থেকে পরিবর্তন করে আবার ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করা হয়।
আন্তর্জাতিকভাবে নাম পরিবর্তন কতটা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার দেশটির সরকারি নথি, মানচিত্র ও ফেডারেল সংস্থায় ব্যবহৃত ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মতো আন্তর্জাতিক জলভাগের নাম বিশ্বব্যাপী পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
এই দুই মহাসাগর বহু দেশের উপকূল ও আন্তর্জাতিক জলসীমার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলেও অন্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সেই নাম গ্রহণে বাধ্য করতে পারবে না।
এখন পর্যন্ত আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্প কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাহী আদেশ জারি করেননি। তাই তাঁর বক্তব্যকে আপাতত একটি প্রস্তাব বা সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক স্থানের নামকরণ, জাতীয় পরিচয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নামের ব্যবহার নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
