ঢাকা | মার্চ ১১, ২০২৬ - ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

কবিতা “পুরুষ যখন কাঁদে”

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, December 31, 2020 - 6:39 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 134 বার

অনমিত্র সান‍্যাল

আমার বুকের ভেতর একটা অরণ্য আছে, আকাশের নগ্ন বুকে, আবশ্যক সোনালি , রূপোলি,

সবুজে, ঘিরেছে রাতদিন,
আলস্যেও ঘিরেছে, ঝড় ওঠে প্রায়-ই,সে ভঙ্গী ভালো নয়,
সে আমার ঈশারাতেও চলে,
ওঠে বসে,মাঝে মাঝে মনুমেন্ট হয়ে,আকাশ ফুঁড়তে চায়,আবার ধরতে গেলে অলিন্দ-তে বাজে,
কখনো বেহাগ হয়,কখনো সানাই,কখনো চাঁপার মতো ফোটে,

বুকের দুপাশে আছে সারিবদ্ধ মৃত্যুর সোপান,
মনে হয় অতলেই গেছে,
ভিতরে সরসরে বয়ে যাওয়া নদী…
লাল নীল হলুদে সবুজে,ঘরময় গাছপালা, তবুও নিসর্গে ঘুম,
তবুও বুকের মধ্যে পুরোনো ক্ষতটা কিছুতে সারে না,
ওঠে ,বসে বুকের মধ্যে নুড়ি হয়,
কনিষ্ঠায় অঙ্গুরীয় হয়, মধ্যমা,অনামিকা, চোখ ঢাকে,
কুলকুল নদী হয়ে ঈশারাতে চলে,বামে কিম্বা দক্ষিণে,
সে নদীর নাম বিষন্নতা।
সন্ধ্যে হলে পুরুষ হয়ে চুপটি করে বসে,
সে কাঁদতে জানে না,
পুরুষ কিনা!!

উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা কষ্ট,আবশ্যক ব্যারিকেডে মুখ গুঁজে থাকে,
কেবল অদৃশ্য মেঘেরা তাকে বনাঞ্চলে রাখে,
পরিপাটি অতুলনীয় রঙ মেখে,নগ্ন পায়ে,
প্রকাশ্যে জল ছেঁচে,উপুড় করে,
আদেশ মানে,অসুখ বিসুখ দীর্ঘ হলে কানের কাছে নিঃস্ব হয়ে বাজে।

ভরা প্লাবন ভাসিয়ে গেছে ঘর,
মানুষটা আমি হৃদয়েই নির্ভর,
চিরকাল-টা নারী-র উপেক্ষায়,
মন্দে-ভালোই ছিলো,
সঁপে দেওয়া আবশ্যক হলেও, কিছু একটা বোলো।

পুরুষ যেখানে ডুবেছে,সেখানেই নারীর রহস্য,উষ্ণতা সেখানে মাছের মতো নড়েচড়ে,
অর্গান্ বাজলে তারা রোমাঞ্চ গান গায়,
অবিন্যস্ত তুলোর মতো ওড়ে,
আলিঙ্গনেও কষ্ট নেই,প্রকাশ্যতেই ধ্বংসগুলো দেবতা হয়,ইলিয়াডের পাতায় নড়ে চড়ে,
একনাগাড়ে বৃষ্টি হলে,শাড়ির প্রান্তে রোজই নৌকাডুবি,বালিতে লেখা আলতা পায়ের দাগ,
রোজ দুপুরে আমার পাশে কৌশলীরা দিব্যি শুয়ে থাকে,
আমার বুকের পাঁজর দিয়ে বজ্র হলে,দেখবে তখন মন্থনে কি বিষ,

আমার অরণ্যে আজ ভালোবাসা একাকী ফুটেছে।