পঞ্চগড়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের দুই কলেজে চাকরি, ৯ বছর পর ধরা
পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃপঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার এক এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুইটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর কাদের শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বি.এম. ও কারিগরি ইনস্টিটিউট কলেজে ইংরেজি বিভাগের এমপিওভুক্ত প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। একই সময়ে তিনি তেঁতুলিয়ার মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে নন-এমপিও প্রভাষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। যদিও একইসঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নিষিদ্ধ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুর কাদের ২০১৫ সাল থেকে শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বি.এম. ও কারিগরি ইনস্টিটিউটে ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ প্রতিষ্ঠানেই তিনি এমপিওভুক্ত। পাশাপাশি, মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজে নন-এমপিও প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালার ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারিরা একাধিক চাকরি বা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারেন না। তা সত্ত্বেও, সরকারি নিয়ম অমান্য করে আব্দুর কাদের দুইটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং এর মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আব্দুর কাদের মাঝিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এমপিওভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও করছেন। যদি তিনি সফল হন, তাহলে ৯ বছরের বকেয়া এমপিও সুবিধা পাওয়ার চেষ্টায় আছেন বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে শালবাহান উচ্চ মাধ্যমিক বি.এম. ও কারিগরি ইনস্টিটিউট কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হক বলেন, “২০১৫ সাল থেকে আব্দুর কাদের এখানে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কি না, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
অভিযুক্ত আব্দুর কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, “অভিযোগটি সত্য নয়। একজন সাংবাদিক যখন দুটি মিডিয়ায় কাজ করতে পারেন, তখন আমি শিক্ষক হয়ে কেন দুটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারব না? আমার ক্ষেত্রে অন্য নিয়ম কেন?
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করা নিষিদ্ধ হলেও, আব্দুর কাদের দীর্ঘ ৯ বছর ধরে দুই কলেজে শিক্ষকতা করছেন। বিষয়টি এখন আলোচনায় এসেছে, যা নীতিমালা ভঙ্গের সুস্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং তদন্তের দাবি উঠেছে।








