চাঁদা না দেওয়ায় জল খাবার হোটেল ভাংচুরে অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:চাঁদা না দেওয়ায় বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হোসেন খান ও ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আক্তারের নেতৃত্বে মহাখালীর ঐতিহ্যবাহী জল খাবার রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। বিএনপির একাধিক নেতা ও থানা পুলিশ জানায়, এই হামলার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বনানী থানা যুবদলের এক নেতা ও ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার নাম উঠে এসেছে। তারা আপন দুই ভাই। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও গভীর তদন্ত চলছে।
থানা বিএনপির সাবেক ও বর্তমান এক সভাপতি সাংবাদিকদের জানান, চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পেয়ে মহাখালীর জল খাবার হোটেল ভাংচুরে জড়িত বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক মনির ও ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আক্তার। তার আপন দুই ভাই। তাদের বিরুদ্ধে এর আগে ও অনেক অভিযোগ আছে। এরআগে ও তাদের নেতৃত্বে গুলশান বনানীর বিভিন্ন জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব বিষয়ে বনানী থানা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হোসেন খান, ও তার আপন ভাই বিএনপি নেতা আক্তার বলেন, তারা এই ঘটনা সাথে জড়িত না। এটি সাবেক এক কাউন্সিলর করেছে বলে উল্টা দাবি করেন।
অবশ্য এ হামলার ঘটনায় আহত হওয়া জল খাবার হোটেলের এক স্টাফ জানান, হামলার সময় দূবিত্তরা। বনানীর যুবদল নেতা মনির ও আক্তারের নাম বলে আর আমাদের মারধর করে। এবং তারা ক্যাশ থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। পরে হোটেলটি বন্ধ করে দিয়ে যায়। এই ঘটনা জানা জানি হলে পরে বনানী থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান ভাই সহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা এসে আমাদের জল খাবারের দোকানটি খুলে দিয়ে যায়। এই ঘটনায় আমরা বনানী থাকায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় বনানী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে জল খাবার কর্তৃপক্ষ। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। তবে, এই হামলার সঙ্গে যারাই জড়িত হোক না কেনো সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
হামলার ঘটনাটি প্রথমে স্বীকার করতে না চাইলেও পরে বিষয়টি স্বীকার করে জল খাবার হোটেলের ক্যাশিয়ার প্রদিপ কুমার ঘোষ জানান, যুবদলের এক নেতা ও বিএনপির এক নেতা আমাদের এখানে হামলা করেছে। তারা না কি বিএনপির কিলার। তবে, স্থানীয় বিএনপির নেতারা এসে আমাদের জল খাবার হোটেলটি চালু করে দিয়ে গেছে। থানায় আমরা মামলা করবো অভিযোগ করেছি পুলিশ তদন্ত করছে। তিনি বলেন, আমাদের এই ঘটনায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বনানী থানা বিএনপির একাধিক নেতা ও সূত্র জানায়, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আপন দুই ভাইয়ের অনুযারী। একজন বনানী থানার যুবদল নেতা মনির হোসেন খান আরকেজন মনিরের ভাই ২০ ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান আক্তার।
জানা যায়, এরআগে দৃবিত্তরা ২১ জানুয়ারি দুপুরে জল খাবার তালা বন্ধ করে যায়। কেনো বন্ধ করা হয় এটা জানতে চাইলে অভিযুক্তদের নাম বলে হামলাকারীরা। এরপর দোকান নতুন রুপে খুললে দৃবিত্তরা ঘটনার দিন সন্ধায় ৭ টার দিকে এসে ভাঙচুর করে স্টাফদের মারধর করে এবং ক্যাশ থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান জানান, এই হামলার সঙ্গে বিএনপির যদি কেউ জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এর কারণ হলো জনাব তারেক রহমান যে নির্দেশনা ও দায়িত্ব দিয়েছেন সে দায়িত্ব আমি পরিপূর্ণভাবে পালন করব। আর আপনি ২০ ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আক্তার বা অন্য যার নাম বলেছেন তারা আপন দুই ভাই। যদি এই হামলার ঘটনায় তারা জড়িত থাকে তাহলে অবশ্যই আক্তারকে শোকজ করা হবে।
এই বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল সরোয়ার জানান, পুলিশ জল খাবার হোটেলে হামলার ঘটনাটি তদন্ত করছে। বিএনপির কোন নেতা কর্মীর যদি এর যাতে জড়িত থাকে বা অভিযোগের সত্যতা মেলে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল সাংবাদিকদের জানান, যুবদলে দুর্বৃত্তদের কোথাও স্থান দেওয়া হবে না। কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে বা প্রমাণ হলে তাকে দল থেকে শোকজ করা হভে। তিনি বলেন, তাছাড়া যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মে লিপ্ত তারা হচ্ছে দুর্বৃত্ত। দুর্বৃত্তদের যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরে কোথাও স্থান হবে না।








