ঢাকা | মার্চ ১২, ২০২৬ - ১:৩৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

এক কিশোরের কাঁধে চারজনের জীবনযুদ্ধ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Thursday, June 19, 2025 - 8:13 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 132 বার

রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার:মাত্র ১৪ বছরের কিশোর তোফাজ্জল হোসেন। এক হাতে ধরেছে সংসারের হাল, অন্য হাতে ঠেলছে জীবনযুদ্ধের ভার। প্রতিদিন ভাঙা একটি বাইসাইকেল চালিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূরের দুর্গম খাসিয়া পল্লীতে গিয়ে কাজ করে যা আয় হয়—মাত্র দুই থেকে আড়াইশ টাকা। এই সামান্য টাকায় চলে চার সদস্যের পরিবার।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দী গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল। তার পরিবারে রয়েছেন হার্টের রোগে আক্রান্ত বাবা আলী আহমদ (৬৫), মানসিক প্রতিবন্ধী বড় বোন আয়েশা খাতুন (২৫) ও ৮২ বছর বয়সী শয্যাশায়ী দাদি সমিতা বিবি। পরিবারে তোফাজ্জলই একমাত্র উপার্জনক্ষম।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তোফাজ্জল বলেন, “প্রতিদিন সকালে সাইকেল নিয়ে বের হই। দুর্গম এলাকায় কাজ করে সন্ধ্যায় ফিরি। যা রোজগার হয়, তাতেও দু’বেলা খেতে পারি না। আল্লাহ ছাড়া আমাদের কেউ নাই।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ছোট ঘরে মাটির মেঝেতে কাঁথা পেতে শুয়ে আছেন দাদি সমিতা বিবি। অপুষ্টি ও রোগে কাতর শরীর, কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন প্রায়। কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তার চোখে জল এসে পড়ে।

তিনি বলেন, “ঈদের দিনও ডালভাত খেয়ে কেটেছে। চাল আনলে ওষুধ আনতে পারি না। অনেক দিন অনাহারে থাকতে হয়। কেউ সহযোগিতা করলে খাই, না হলে উপোস।”

প্রতিবেশী ফজল মিয়া ও আবু শহীদ জানান, এই পরিবারটি প্রকৃত অর্থেই অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন তারা।

ইসলামপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ জানান, “তোফাজ্জলের পরিবারের কোনো ঘর ছিল না। কয়েক বছর আগে তাদের জন্য সরকারি আবাসনের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা ও জীবিকা নির্বাহে তাদের প্রয়োজন স্থায়ী সহায়তা।”

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোফাজ্জলের পরিবারের দুরবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু সহৃদয় ব্যক্তি খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেছেন। কিন্তু শুধু খাদ্য নয়, এই পরিবারটির প্রয়োজন একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

১৪ বছরের শিশু তোফাজ্জলের কাঁধে পুরো এক পরিবারের দায়িত্ব। এই কঠিন বাস্তবতা থেকে মুক্তি পেতে সমাজের সহানুভূতি, প্রশাসনের সহায়তা ও টেকসই কোনো উদ্যোগই হতে পারে তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র আশ্রয়।