ঢাকা | মার্চ ১২, ২০২৬ - ১:০৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বারহাট্টায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, July 13, 2025 - 2:55 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 38 বার

মামুন কৌশিক নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার বারহাট্টায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।শ্বশুরবাড়ি নেত্রকোনার বাহিরচাপড়া গ্রাম থেকে গত শুক্রবার ভূক্তভোগীর বাবার বাড়ি বারহাট্টায় আসার পথে টেঙ্গা এলাকায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।নির্যাতনের স্বীকার গৃহবধূ হীরামনী (২০) উপজেলার গুমুরিয়া গ্রামের রহিত মিয়ার মেয়ে।আজ ১৩ জুলাই নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে স্বামী রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

স্বামীর মারধরের কারণ আহত ওই গৃহবধূ বর্তমানে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নির্যাতনের স্বীকার গৃহবধূ হীরামনী এই প্রতিবেদককে জানান, গত ৩ বছর আগে নেত্রকোনা সদরের রাজুর বাজার এলাকার বাহিরচাপড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে রাজা মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী রাজা মিয়া বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য তার উপর অত্যাচার শুরু করে। বাবার কষ্টের কথা চিন্তা করে সে তার বাবাকে কিছু না জানিয়ে নীরবে অত্যাচার সহ্য করতে থাকে। গত শুক্রবার বাবার বাড়ি বারহাট্টায় রেড়ানোর জন্য স্বামীর সাথে মোটরসাইকেলে করে বারহাট্টার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। কিন্তু রাস্তায় যৌতুকের টাকা-পয়সা নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। পরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার টেংগা এলাকার নির্জন জায়গায় নিয়ে তাকে মারাধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার আত্মচিৎকারে অটোরিকশার দুই যাত্রী তাকে উদ্ধার করতে আসলে স্বামী রাজা মিয়া পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে অটোরিকশার যাত্রীরা তাদের বাড়িতে নিয়ে যান এবং তার বাবার সাথে যোগাযোগ করে বারহাট্টা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

ভূক্তভোগী আরো বলেন, আমার স্বামী আমাকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য অত্যাচার করত এবং মেরে ফেলার হুমকি দিত। গত শুক্রবার আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। আমি আইনের আশ্রয় নিয়ে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

গৃহবধূর বাবা রহিত মিয়া বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে তার স্বামী অত্যাচার করতো। কিন্তু আমার কষ্টের কথা ভেবে মেয়ে আমাকে কিছুই জানায় নি। গত শুক্রবার মোবাইল ফোনে মেয়ের কান্নাকাটি শুনে অটোরিকশার যাত্রীদের বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে এসে বারহাট্টা হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে বারহাট্টা থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগ না নিয়ে নেত্রকোনা থানায় অভিযোগ করতে বলে পুলিশ।তাই আজকে আমরা একটা নারী নির্যাতনের মামলা করেছি।আমি আমার মেয়ের উপর হওয়া নির্যাতনের বিচার চাই।