সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নিরুন নাহার বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেবার নামে হয়রানি
ঢাকা প্রতিনিধি: রাজধানীর মতিঝিল ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অভিযোগ উঠেছে, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোসাঃ নিরুন নাহার বেগম অফিস পরিচালনায় নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে সেবাকে পরিণত করেছেন ঘুষ বাণিজ্যে।
দিনের পর দিন ঘুরেও মিলছে না সেবা।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সেবা পেতে তাদের দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। অথচ দালাল ও নির্দিষ্ট কিছু লোক টাকা দিলে কাজ হয়ে যায় মুহূর্তেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঘুরেছি। কিন্তু কোনো ফাইল উঠানো হয়নি। কর্মকর্তাদের কাছে গেলে বলা হয় পরে আসতে। অথচ যাদের হাতের মুঠোয় টাকা, তাদের কাজ সঙ্গে সঙ্গেই হয়ে যায়।”
অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূমি অফিস ঘিরে একটি সক্রিয় দালাল চক্র কাজ করছে। এই চক্রই মূলত সাধারণ মানুষের ফাইল আটকে রাখে এবং পরে কর্মকর্তাদের ইঙ্গিতে ঘুষের বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন করে। সেবার নামে প্রতিনিয়ত এভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এক ভুক্তভোগী জানান,আমাদের বলা হয়—‘কাজ করতে হলে কিছু দিতে হবে’। না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে থাকে। এভাবে দালালদের মাধ্যমে বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়।”
অভিযোগ রয়েছে, রেকর্ড রুমে প্রতিদিনই গোপনে ঘুষ লেনদেন চলছে। সাধারণ সেবাগ্রহীতার থেকে শুরু করে জমির নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, দলিল ভেরিফিকেশন সব কাজের ক্ষেত্রেই দালালদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নিজে সরাসরি টাকা না নিলেও দালালদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করেন। ফলে সেবার নাম করে গড়ে উঠেছে একটি সমান্তরাল “ঘুষের বাজার”।
সাংবাদিককে কথা বলতে অস্বীকৃতি
ঘটনার সত্যতা জানতে দৈনিক ঘোষণার একজন প্রতিবেদক সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোসাঃ নিরুন নাহার বেগমের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি কোনো মন্তব্য না দিয়ে দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন।
বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের মত, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি দপ্তরে দালাল ও ঘুষ বাণিজ্য দেশের সুশাসন ও জনগণের মৌলিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ বিষয়ে তারা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন।
ভূমি বিষয়ক এক আইনজীবী জানান,ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম্য নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষ কখনো ন্যায্য সেবা পাবে না।”
সাধারণ মানুষের দাবী ভুক্তভোগীরা দ্রুত এ অনিয়ম বন্ধে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি,
দালাল চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
অফিসে সরাসরি ঘুষ লেনদেন বন্ধে স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা চালু করা হোক।
সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধ করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করা হোক।
মতিঝিল ভূমি অফিসে সেবার নামে প্রতারণা, ঘুষ ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, নইলে এই অনিয়ম থেকে মুক্তি মিলবে না।








