ঢাকা | এপ্রিল ২৩, ২০২৬ - ১০:২৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

গৌরীপুরে চাঁদা না পেয়ে বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, March 30, 2026 - 1:10 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 38 বার

স্টাফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে নিরীহ একটি পরিবারের বসতবাড়ি-ঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ( ২৬ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা । এতে পরিবারটির প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে রয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় থানা পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুর থানাধীন সৌলগাই গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ একেএম আব্দুল হেকিম মাস্টারের বাড়ি এবং তাদের পরিবারের গোবিন্দপুর বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও ব্যবসার মালামাল লুট করে নেয়। এছাড়া পুকুরের মাছ ও খামারের মুরগিও লুটপাট করে। এতে পরিবারটি প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্র ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এ হামলা চালায়। এর আগে বেশ কিছুদিন ধরে পরিবারটির সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল।

ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা জরুরি সহায়তা পেতে জাতীয় সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন।

এমনকি পরবর্তীতে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হলেও তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি বলেও দাবি করেন বাদী মো. শামসুল আলম।
এজাহারে আব্দুল রাজ্জাককে প্রধান আসামি করে নজরুল ইসলাম (বাদল), আবুল মাস্টার, রফিকুল হাসান, সাকিব আল হাসান, আজিজুর রহমান, উজ্জ্বল মিয়া, আবুল মুনছির ফকির, রাশেদ মিয়া, হারুন অর রশিদ, জহিরুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন, সোহেল মিয়া, বিজয় হোসেন, ইমাম হোসেন, সাগর মিয়া, কামরুল ইসলাম, মাহফুজ আহমেদ, রুবেল মিয়া, পাপনসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হেকিম মাস্টারের বাড়িতে এখন আতঙ্কের বীভিষিকা। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বাড়িতে কেবল বৃদ্ধ হেকিম মাস্টার ও কয়েকজন বয়স্ক নারী অবস্থান করছেন। ভাঙচুরের চিহ্ন এখনও স্পষ্ট, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং দায়িত্বে ছিলেন ওসি (তদন্ত)। তবে ওসি (তদন্ত)-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।