জুট ব্যবসায়ীকে অপহরণ অতপর হাত বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার
মোঃ রুবেল মিয়া, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশ থেকে আতিকুর রহমান (৫২) নামের এক জুট ব্যবসায়ীর হাত বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
শনিবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে মহাসড়কের পাকুল্যা ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শারমিন জাহান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত আতিকুর রহমান টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দশআনি বকশিয়া গ্রামের খালিদুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, আতিকুর রহমান স্ব-পরিবারে গাজীপুরের ভান্নারা এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং জুটের বিজনেস করতেন। গত শুক্রবার তিনি টাঙ্গাইলে ব্যক্তিগত কাজের জন্য তাঁর মামাতো ভাইয়ের বাসায় রাত্রীযাপন করেন। পরদিন শনিবার কাজ শেষে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে তার স্ত্রীকে জানান রওনা দেয়ার কথা।
সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে আতিকুর রহমান জানান, তিনি একটি প্রাইভেটকারযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়ার পর অপহরণকারীরা তাকে অপহরণ পূর্বক মারধর করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। তিনি উপায় না পেয়ে বাসায় থাকা বিশ হাজার টাকা তার স্ত্রীকে ডিজিটাল মাধ্যম ‘বিকাশে’ পাঠাতে বলেন।
পরে তার স্ত্রী আতিকুরের নাম্বারে ১০ হাজার করে দু’বার টাকা পাঠান। অপহরণকারীরা আরও ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। উক্ত টাকা দিতে দেরি হওয়ায় আতিকুরকে মারধর করে সে আর্তনাদ স্ত্রী শারমিনকে মুঠোফোনে শোনায় অপহরণকারীরা।
পরে আতিকুরের মোবাইল বন্ধ করে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা এলাকায় হাত বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। রাতে স্থানীয়রা তাকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে সংবাদ দিলে আতিকুরকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সংবাদ পেয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।








