স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণে ড. মাসুদ এমপির সুপারিশ, শিক্ষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার
মো. জাফর ইকবাল (বাউফল) পটুয়াখালী: দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো দ্রুত জাতীয়করণ অথবা এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়ে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশপত্র পাঠিয়েছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম।
গতকাল ২২ জুন (সোমবার) পাঠানো ওই সুপারিশপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অতি সামান্য ভাতা কিংবা কোনো আর্থিক সুবিধা ছাড়াই শিক্ষাদান করে আসছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং শিক্ষাব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নানা সংকটে পড়ছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা ভাতা চালু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার সুপারিশে উল্লেখ করেন, বাউফল উপজেলায় ১০১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি অনুদানপ্রাপ্ত হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো সরকারি সুবিধার বাইরে রয়েছে। দেশের প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে এসব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ অথবা এমপিওভুক্ত করা জরুরি বলে তিনি মত দেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
*শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া*
বাউফল উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক **মাওলানা আবদুল কুদ্দুস** বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে শিক্ষাদান করে আসছি। এমপি মহোদয় আমাদের দাবির পক্ষে সুপারিশ করায় আমরা আশাবাদী হয়েছি। সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলে হাজারো শিক্ষক-পরিবার উপকৃত হবে।”
আরেক শিক্ষক **মাওলানা হারুন অর রশীদ** বলেন, “স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো গ্রামাঞ্চলে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নেই। জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তি হলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।”
**মোছা. ফাতেমা বেগম** নামের একজন সহকারী শিক্ষিকা বলেন, “আমরা বছরের পর বছর অল্প সম্মানী কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বিনা বেতনে কাজ করছি। সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগ আমাদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে।”








