গোসাইরহাটের বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকা ছাড়া ভুক্তভোগীর পরিবার,
শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের খান পাড়া এলাকায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এক প্রতিবন্ধী মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সিদ্দিক খান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। অভিযোগের পর নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীর পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে অবস্থান করছে ।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের অভিযোগ, সিদ্দিক খান তাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় এবং পাশাপাশি বাড়ি সেই সুবাদে নিয়মিত তার বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং চাচা হিসেবে বিভিন্ন জিনিসপত্র এগিয়ে পিছিয়ে দিতেন । ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি,পারিবারিক সম্পর্ক ও তাদের আর্থিক অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে মেয়ে সাথে শারীরিক মিলামিশা (ধর্ষণ) করেন এবং বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও অভিযোগে করে বলেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সাত মাসের সন্তান নষ্ট করতে তাকে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের দাবি, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করে তাকে জেলার বাইরে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীর বাবা একজন প্রতিবন্ধী এবং মা বেকারি কারখানায় কাজ সহ অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। পরিবারটির দাবি, অভিযুক্তের প্রভাব ও হুমকির কারণে তারা নিজ বাড়ি ও এলাকায় নিরাপদে থাকতে পারছেন না। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, প্রায় আট থেকে নয় বছর আগেও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সে সময় ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যায় বলে তাদের অভিযোগ। সাম্প্রতিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সিদ্দিক খান বলেন, “এটি আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আমি গোসাইরহাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মেয়েটি কোথায় আছে, তাও আমি জানি না।” তিনি আরও দাবি করেন, আট বছর আগে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও মিথ্যা ছিল।
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ বা মামলা হলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।








