ভাগ্য বদলের স্বপ্ন যখন দুঃস্বপ্ন: সৌদি আরবে নির্মম নির্যাতনের শিকার প্রবাসী আবু হানিফ, দেশে ফিরতে আকুল আকুতি
জেদ্দা, সৌদি আরব: বুকভরা আশা আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সাত মাস আগে সৌদি আরবের তায়েফ শহরে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধা আবু হানিফ। কিন্তু ভাগ্য বদলের সেই স্বপ্ন এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ভিনদেশে পরবাসীর হাতে নয়, নিজ দেশেরই আরেক বাংলাদেশীর অমানুষিক নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হয়ে এখন পঙ্গুত্ব বরণ করতে চলেছেন তিনি।
তায়েফ শহরের একটি হোটেলে কাজ নেন আবু হানিফ। যার মালিক আলী নামের এক বাংলাদেশী, যার দেশের বাড়ি ঢাকার মিরপুরে। প্রবাসের মাটিতে দেশের মানুষকে পেয়ে যেখানে ভরসা পাওয়ার কথা, সেখানে হানিফের কপালে জুটেছে চরম নিষ্ঠুরতা। গত চার মাস ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও তাকে কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। অভাবের তাড়নায় যখন নিজের পাওনা বেতনের টাকা দাবি করেন, তখনই নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। মালিক আলী তাকে নির্মমভাবে মারধর করে, গালাগাল দেয় এবং একপর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হোটেল থেকে তাড়িয়ে দেয়।
পায়ে পচন, চোখে জল: এক অসহায় বাবার আকুতি বর্তমানে আবু হানিফ অত্যন্ত অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নির্যাতনের কারণে তাঁর পায়ে মারাত্মক জখম হয়ে পচন ধরেছে। চিকিৎসার অভাব আর ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করতে করতে এখন তাঁর একমাত্র চাওয়া—যেকোনো উপায়ে বেঁচে দেশে ফেরা।
তবে শারীরিক কষ্টের চেয়েও এক বুক বুকফাটা কান্না আর আক্ষেপ কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে এই বাবাকে। দেশে তাঁর সাত বছরের একটি ফুটফুটে ছেলে রয়েছে। সাতটা মাস কেটে গেল, অথচ কলিজার টুকরো সন্তানের জন্য একটি বারের জন্যও সামান্য কোনো উপহার কিংবা জামা কিনে পাঠাতে পারেননি তিনি। নিজের অসহায়ত্ব আর সন্তানের মুখে কিছু তুলে দিতে না পারার এই তীব্র যন্ত্রণা যেন তাঁর পায়ের পচনের চেয়েও হাজার গুণ বেশি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। অশ্রুসিক্ত চোখে হানিফ এখন বাংলাদেশ সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছেন, তাকে যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। একই সাথে পাষণ্ড মালিক আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আবু হানিফের এই নির্মম ঘটনাটি নজরে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দা। এ বিষয়ে জেদ্দার লেবার কাউন্সিলর খোন্দকার সিরাজুল সালেকিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই কনস্যুলেট অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখছে।
“আবু হানিফকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে পাঠানোর জন্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে তাঁর খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হচ্ছে।” খোন্দকার সিরাজুল সালেকিন,খন্দকার সেরাজুস সালেকীন
শ্রম কাউন্সেলর, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দা।
ভাগ্য অন্বেষণে যাওয়া এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার কান্না যেন আর দীর্ঘায়িত না হয়, এবং অপরাধী আলী যেন প্রবাসের মাটিতে পার পেয়ে না যায়—এখন এটাই প্রবাসী ও দেশের সচেতন মহলের জোরালো দাবি।








