রাজন আবেদীন রাজু, স্টাফ রিপোর্টার: টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আকস্মিক এই ভাঙনের ফলে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক এবং কয়েকশ একর আউশ ধানসহ বিভিন্ন কৃষিজমি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের মোখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রায় ১০০ মিটার বাঁধ ধসে যায়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর প্রবল স্রোতে পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা গ্রাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, সময়মতো স্থায়ী সংস্কার করা হলে এত বড় দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব ছিল। বর্তমানে অনেক পরিবারের ঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও সুমন মিয়া জানান, রাতের আঁধারে হঠাৎ করেই বাঁধটি ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি গ্রামে ঢুকে পড়ে। মানুষ কোনো প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ না পেয়ে প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান।
এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়ছে। ধলাই ও মনু নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মোখাবিল এলাকার বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পূর্বে কাজ শুরু হলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর আপত্তির কারণে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি দুর্বল অবস্থায় ছিল।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের জন্য শুকনো খাবার বিতরণসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।