ঢাকা | জুলাই ২০, ২০২৬ - ৮:৩৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

রাজশাহী নির্বাচন অফিসে ১৪৩ জনের অবৈধ নিয়োগে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, July 19, 2026 - 6:01 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 18 বার

জিয়াউল কবীর, স্টাফ রিপোর্টার:সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কোনো উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই ১৪৩ জনকে আউটসোর্সিং পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়োগের বিনিময়ে জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেড জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে নিয়েছে। এতে মোট ঘুষ বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই আগে থেকে অফিসে দৈনিক মজুরি বা অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করতেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদেরকেই টাকার বিনিময়ে ‘নতুন’ আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে একই জায়গায় বহাল রাখা হয়েছে।

*‘জরুরি’ অজুহাতে ডিপিএম*
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো দরপত্র বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধির ব্যতিক্রমী ‘ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড- ডিপিএম’ পদ্ধতিতে কেএসএফ ট্রেডার্সকে কাজটি দেওয়া হয়।

সরকারি ক্রয় আইনে ডিপিএম শুধু বিশেষ পরিস্থিতি বা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের কথা। কিন্তু ১৪৩ জন নিরাপত্তাপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও গাড়িচালক নিয়োগে কী এমন জরুরি ছিল তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

নথি বলছে, বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসেসের চুক্তি শেষে প্রথমে ১১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে আরও ২৬ জন যোগ হয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৩।

*টাকা না দিলে চাকরি নেই*
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিয়োগ পাওয়া ৩ জন কর্মী বলেন, “চাকরি স্থায়ী থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাদ দেওয়া হবে না- এই আশ্বাসেই টাকা দিতে হয়েছে। অফিসের কর্মকর্তারাও কোম্পানির লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন।”

আরেকজন বলেন, “পুরো সিস্টেম সিন্ডিকেটের হাতে। যারা টাকা দেয়নি তাদের নাম তালিকা থেকেই বাদ পড়েছে।”

*শ্যামলীতে সড়ক অবরোধ*
গত ৬ জুলাই নিয়োগপত্র নিতে ঢাকার শ্যামলীতে কেএসএফের কার্যালয়ে ডাকা হয় ১৪৩ জনকে। সেখানে গিয়ে জনপ্রতি ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা দাবি করা হলে বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রত্যাশীরা সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

*কী বলছেন তারা*
রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, “লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। অফিসের কার্যক্রম সচল রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই ডিপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।”

কেএসএফ ট্রেডার্সের এমডি মো. শামীম হোসেনের দাবি, “ই-টেন্ডার করতে ২-৩ মাস লাগত। শ্রমিকরা বেতন পেত না। তাই পুরোনো কর্মীদেরই রাখা হয়েছে। তালিকা নির্বাচন অফিস দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ টাকা নিলে তার দায় আমাদের না।”

*তদন্ত চান সুজন*
সুজনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে এ ধরনের অভিযোগ গুরুতর। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”