সখিপুরে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়ে মিষ্টি না খেয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত সহপাঠীর মায়ের পাশে শিক্ষার্থীরা, পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
শরিফুল ইসলাম বাবুল, সখিপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দে মিষ্টি বিতরণ না করে সেই অর্থ সহপাঠীর ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসায় তুলে দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে টাঙ্গাইলের সখিপুরের কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগের খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরে তিনি ওই অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে ফোন করে অসুস্থ মা ও তাঁর পরিবারের খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তাঁর পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সখিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে ফোন করে ক্যান্সার আক্রান্ত ওই মায়ের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সখিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে ফোন করেন। তিনি সখিপুরের কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থী নাইম ইসলামের ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা ও পরিবারের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
ইউএনও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ওই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আগামী ২৬ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনে গিয়ে পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের অর্থ তুলে দেবেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতন থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ ২৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাসের আনন্দে মিষ্টি বিতরণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। মিষ্টি কেনার জন্য রাখা ২০ হাজার টাকা তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাদলের হাতে তুলে দেয়। পরে প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আরও ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। সব মিলিয়ে ৪০ হাজার টাকা সহপাঠী নাইম ইসলামের ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মা লাইলী বেগমের চিকিৎসার জন্য তাঁর দাদা আব্দুস ছাত্তার সিকদারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
গত ১৬ আগস্ট সকালে বিদ্যালয়ে এই অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের এমন মানবিক উদ্যোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। পরে খবরটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার খবর জানতে পেরে আনন্দ ও আবেগে আপ্লুত নাইম ইসলাম বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তাঁর সহপাঠী এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মায়ের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নাইমের ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এজন্য নাইমের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
সখিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, “মিষ্টি বিতরণ না করে শিক্ষার্থী নাইমের ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের পাশে তাঁর সহপাঠীরা দাঁড়িয়েছে এমন সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি মঙ্গলবার সকালে ফোন করে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং ওই মায়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।”
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের এক শিক্ষার্থীর মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিষ্টি না খেয়ে ২০ হাজার টাকা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আরও ২০ হাজার টাকা দিয়ে মোট ৪০ হাজার টাকা ওই মাকে সহায়তা করেছেন। খবরটি জানার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ফোন করেন এবং ক্যান্সার আক্রান্ত ওই মায়ের বাড়ি ও বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বর্তমানে শিক্ষার্থী নাইম ইসলামের মা লাইলী বেগম সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সখিপুর উপজেলার কালিদাস ঠকানিয়াপাড়া গ্রামের কাতার প্রবাসী আব্দুল লতিফ সিকদারের স্ত্রী। গত ৪ আগস্ট তাঁর ব্লাড ক্যান্সার শনাক্ত হয়।
শিক্ষার্থীরা মিষ্টি না খেয়ে সহপাঠীর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসায় অর্থ সহায়তার উদ্যোগ যেমন এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি সেই মানবিকতার খবর প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর পরিবারটির চিকিৎসায় নতুন আশারও সঞ্চার হয়েছে।








