ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ - ১০:৪০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বাবাটাই হয়তো তার পৃথিবী!

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Monday, September 28, 2026 - 1:40 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 21 বার
প্রতিবেদক: এমডি নাসির, নিউ জার্সি (যুক্তরাষ্ট্র)
জীবনের গল্প কখনো কখনো এমন কিছু দৃশ্যের জন্ম দেয়, যা কঠিন হৃদয়কেও নাড়া দেয়। একটি ছোট্ট শিশুর ভালোবাসা, অসহায়ত্ব আর বাবার প্রতি গভীর টান—এমনই একটি দৃশ্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রচারিত একটি লেখায় বলা হয়েছে, বরিশালের বামরাইল বন্দরের বাজারে রাতে চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাকে মারধর করে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সকালে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসে তাঁর আনুমানিক ৮–৯ বছরের ছোট্ট মেয়ে।
বাবার আহত শরীর দেখে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে। বাবার শরীরের আঘাতের জায়গাগুলো মুছে দেওয়ার চেষ্টা করে সে। এরপর পাশের দোকান থেকে পাউরুটি ও চা কিনে আনে। চায়ে পাউরুটি ভিজিয়ে, ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে বাবার মুখে তুলে দিতে থাকে।
চারপাশে তখন মানুষের ভিড়। বাবার মাথা লজ্জায় নত। কিন্তু ছোট্ট মেয়েটির চোখে তিনি কোনো অপরাধী নন—তিনি তার বাবা, তার সবচেয়ে আপন মানুষ, তার ছোট্ট পৃথিবী।
বাবার বিরুদ্ধে যে অভিযোগই থাকুক, আইন অনুযায়ী তার বিচার হতে পারে। কিন্তু সন্তানের কাছে বাবার প্রতি যে ভালোবাসা, সেই ভালোবাসার কোনো বিচার হয় না। শিশুটির আচরণ যেন মনে করিয়ে দেয়—অভাব, অপরাধের অভিযোগ কিংবা সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একজন সন্তানের কাছে বাবা কতটা আপন হতে পারেন।
তবে এই ঘটনার সত্যতা, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং তাকে মারধরের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিচার আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত; কোনো ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য বিচারব্যবস্থার বিকল্প নয়।
সমাজে অপরাধের নানা রূপ রয়েছে। দরিদ্র মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে অনেক সময় তারা দ্রুত জনতার বিচারের মুখোমুখি হন—অন্যদিকে ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারে—এমন প্রশ্নও সমাজে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
তবে এই শিশুটির চোখের পানি আমাদের সামনে আরও বড় একটি মানবিক প্রশ্ন তুলে ধরে—একজন বাবার ভুল বা অপরাধের দায় কি তাঁর সন্তানের ওপর বর্তাবে?
একজন বাবা অপরাধ করলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হোক। কিন্তু কোনো শিশুকে যেন বাবার ক্ষতবিক্ষত শরীরের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে না হয়। কোনো বাবা যেন সন্তানের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার তাগিদে অভাব ও অসহায়তার কারণে অপরাধের পথে পা বাড়াতে বাধ্য না হন—এটাই হোক আমাদের প্রার্থনা।
রবের কাছে প্রার্থনা—কোনো সন্তানের শৈশব যেন এমন নির্মম দৃশ্যের সাক্ষী না হয়।

Inline image