ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৩:১৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুৎ এর ডি.জি.এম. এর অনিয়মের বিরুদ্ধে মামলা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, December 29, 2020 - 9:02 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 589 বার

মোঃ শহিদুল ইসলাম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ঃ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা শ্রীপুর খরনদ্বীপ ইউনিয়ন মুনসী পাড়া নিবাসী রুপালী ব্যাংকের অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাছির উদ্দীন ১৯৯৩ সালে মৌরশী সম্পত্তি হতে ১৬ শতক জমি খরিদ করেন আপন বড় ভাই মরহুম মোঃ জামাল উদ্দীন হতে সাফ রেজিস্ট্রী কবলা মূলে এবং নিজ নামে ১২৮৬ নং বি.এস. নামজারি খতিয়ান সৃজন করে ভোগ দখলে স্থিত ছিলেন।

উক্ত জমিতে তিন ১৯৯৪ সালে গৃহ নির্মাণ করেন এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ এর জন্য পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করেন এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিস হতে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুতের খুঁটি সহ তার পূর্বের মিটারটির সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরজমিন তদন্তে পল্লী বিদ্যুত অফিস হতে মিটার নং ২১৪৭২৫ পুনঃ স্থাপন করা হয়।

একই সময়ে জমি বিক্রয়ের পূর্বে তার বড় ভাই মরহুম মোঃ জামাল উদ্দীন ও আবেদন করেন বলে জানা যায়। নাছির উদ্দীনের ক্রয়কৃত ভূমির কবলা দাতা মৃত জামাল উদ্দীন আহম্মদ এর দ্বিতীয় সংসারের একমাত্র পুত্র পূর্বের মিটার নং ০২৪১০৭০ পিতার নামের পরিবর্তে নিজ নামে পরিবর্তন করেন। ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ নাছির উদ্দীন তার খরিদকৃত জমি হতে অতিরিক্ত মিটারটি ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে একাধিকবার মৌখিক ও বিগত ৪-১১-২০১৯ ইংরেজীতে লিখিত ভাবে পল্লী বিদ্যুত এর দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডি.জি.এম. রফিকুল আজাদ এর নিকট আবেদন করেন ও তার শরণাপন্ন হলেও তিনি এ বিষয়ে তেমন কোন সাড়া দেননি বলে জানান অভিযোগকারী অবসর প্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ নাছির উদ্দীন। পরবর্তীতিতে তিনি আইনের দারস্থ হয়ে বিগত ১২-১২-২০১৯ ইং তারিখে ডি.জি.এম.রফিকুল আজাদ বরাবরে উকিল নোটিশ প্রদান করেন।

দীর্ঘ সময় পর ১৫-১১-২০২০ ইং তারিখে পল্লী বিদ্যুত কর্মকর্তা ডি.জি.এম. রফিকুল আজাদ উক্ত উকিল নোটিশ এর জবাবে জানান ২৩-০৩-১৯৯৫ ইংরেজী তারিখে জামাল উদ্দীনের পুত্র ইশতিয়াক আহাম্মদের নামে মিটারটির পুণঃ সংযোগ প্রদান করেন। এ ব্যাপারে ডি.জি.এম. রফিকুল আজাদকে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রয়োজনীয় দলিলাদি ছাড়া কিভাবে মিটারটি প্রদান করলেন তার কোন সদ্যুত্তর পাওয়া যায়নি। কারন ১৯৯৩ সালেই উক্ত বি.এস. খতিয়ানের অন্তর্ভূক্ত ইশতিয়াক এর মরহুম পিতা জামাল উদ্দীন তার প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অংশটি মোঃ নাছির উদ্দীন বরাবর বিক্রয় ও দখল প্রদান করেন মর্মে রেজিস্ট্রী দলিলে উল্লেখ রয়েছে।

ফলে নাছির উদ্দীন উক্ত ০২৪১০৭০ নং মিটারটি প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদির দিক থেকে বৈধতা হারিয়েছে এবং তার সম্পত্তির উপর এর কোন প্রয়োজন নেই বলে দীর্ঘদিন যাবত মৌখিক ও লিখিত ভাবে দাবি করে আসছিল এবং সরিয়ে ফেলার জন্য বার বার পল্লী বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা করতে পারেননি।

সরজমিন তদন্তে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান জানান আপনারা বিষয়েটি ভাল ভাবে তদন্ত করলে দেখবেন একটি মিটার এর সংযোগ স্থাপনে কত ধরনের দলিলাদি ও এগ্রিমেন্ট নামা সহ কত প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র লাগে। কিন্তু ইশতিয়াক এর সাথে পল্লী বিদ্যুৎ এর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজোশ রয়েছে বলেই এসব প্রয়োজনীয় দলিলাদির কোন প্রয়োজন হয়নি বলেই মিটারটি স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।

কিংবা তার পিতার নামে বরাদ্দকৃত মিটারটি যদি নাম পরিবর্তন করে নিজ নামে স্থাপনের চেষ্টাও করেন তবুও পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র খতিয়ান এসবের তোয়াক্কা না করেই বিদ্যুত মিটার অবৈধভাবে সংযোগ প্রদান করেন।

তাছাড়া নাছির উদ্দিনের আবেদনের পরেও কেন মিটারটি সরানো হলোনা এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ডি.জি.এম. জনাব রফিকুল আজাদ কৌশলে বিষটি এড়িয়ে যান। বর্তমানে নাছির উদ্দীন মনে করছেন তার ভিটি বাড়ী হুমকির মুখে এবং অবৈধভাবে অন্যকে দখল করিয়ে দেয়ার চেষ্টায় পল্লী বিদ্যুতের অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জড়িত রয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি ১৭-৯-২০২০ ইংরেজীতে পা.বি.স.চেয়ারম্যান সাহেব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এবং ১-১১-২০২০ ইংরেজীতে আরও একটি অভিযোগ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন আমার সম্পত্তিতে আমার বড় ভাই জামাল উদ্দীনের ছেলে ইশতিয়াককে অস্থায়ীভাবে দেখাশুনা ও থাকার জন্য দায়িত্ব দিয়েছি কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ এর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিভাবে উকিল নোটিশের জবাবে এই কথা উল্লেখ করেন আমার সম্পত্তিতে ইশতিয়াক এর দখলে রয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়।

তিনি আরও বলেন আমার জিজ্ঞাসা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি মানুষের সম্পত্তি দখল বেদখলের দায়িত্ব নিয়েছেন কিনা ? এই ব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুত কর্মকর্তা ডি.জি.এম. রফিকুল আজাদের বিরুদ্ধে বিগত ১-১২-২০২০ ইং তারিখে বোয়ালখালী চৌকি পটিয়া আদালতে অপর ১৪২/২০২০ নং মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।