ঢাকা | মার্চ ১০, ২০২৬ - ৪:৩৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

মহাদেপুরে  কালোনির সরঞ্জাম সরিয়ে বালু উত্তোলনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Tuesday, December 29, 2020 - 9:07 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 185 বার

রহমতউল্লাহ আশিকুজ্জামান নুর নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি ঃ নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর মধুবন এলাকায় পাখি কালোনির সরঞ্জাম সরিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম সরিয়ে দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এর আগে শনিবার রাতের কোন এক সময় আত্রাই নদীতে পরিযায়ী পাখির অভয়াশ্রমের বাঁশসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছিলেন বালু ব্যবসায়ীরা। সরকার যেখানে পাখিদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে সেখানে বালু ব্যবসায়ীরা কলোনি ধ্বংস করে বালু উত্তোলনের ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, গত ১০/১২ বছর থেকে সাইবেরিয়া, মঙ্গলিয়াসহ শীত প্রধান দেশ থেকে উপজেলার আত্রাই নদের মধুবন, কুঞ্জবনসহ কয়েকটি এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সড়ালি, পানকৌড়ি, ডুবরিসহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজারো পরিযায়ী পাখি বিচরণ করে। এসব পাখিদের রক্ষায় স্থানীয় প্রাণ ও প্রকৃতি সংগঠনসহ স্থানীয়রা কাজ করে আসছে।

পাখিদের নিরাপত্তার জন্য নদীর মধুবন এলাকায় বাঁশসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে পাখি কলোনি তৈরি করে। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসন মধুবন এলাকায় সরকার ঘোষিত মৎস্য অভয়াশ্রম ও পাখি কলোনি এলাকায় বালু মহল লীজ বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এই দাবির অংশ হিসেবে চলতি বছরে প্রশাসন সেখানে লীজ দেয়া বন্ধ রাখে। কিন্তু তারপরও বালু ব্যবসায়ীরা পাখি কলোনিতে অবৈধ্যভাবে বালু উত্তোলন করছিল।

প্রাণ ও প্রকৃতি সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে গত ১৯ নভেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে ড্রেজার অপসারণ করে। এতে প্রায় দুই সপ্তাহ পর আবারো তারা পাখি অভয়াশ্রমে তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। গত ২৬ ডিসেম্বর রাতের কোন এক সময় পাখির অভয়াশ্রমের বাঁশসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে নদীর পশ্চিম অংশে ছয়টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছিল বালু ব্যবসায়ীরা।

প্রাণ ও প্রকৃতি সংগঠনের সভাপতি কাজি নাজমুল বলেন, মধুবন এলাকায় সরকারি ভাবে লীজ না দিলেও হাজী মোয়াজ্জেম হোসেনসহ কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী প্রভাব খাঁটিয়ে অবৈধ্যভাবে বালু উত্তোলন করছিল। ওই অংশটি উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে ঘোষিত মাছের অভয়াশ্রম এবং প্রতি বছর পাখিরা বসে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করা হলে বালু ব্যবসায়ীর জরিমানা করে প্রশাসন। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কলোনির বাঁশ সরিয়ে ড্রেজার বসিয়ে আবারও বালু উত্তোলন শুরু করে। প্রাণ ও পাখি রক্ষায় বিষয়টি শক্তভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী হাজী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা সেখানেই ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা খরচ করে বাঁশ-কাঠ দিয়ে সেখানে অভয়াশ্রম করেছি। কিছু প্রতিপক্ষরা বিভিন্নভাবে বালু উত্তোলনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। আমরা চাই পাখিরা ভাল থাক। কিন্তু আমরা যে টাকা খরচ করে ইজারা নিয়েছি সেটাও দেখতে হবে। কোন কিছুই সেখান থেকে সরানো হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি সঠিক না।

সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) আসমা খাতুন বলেন, বালু মহলের মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ইজারা বর্হিভুত জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান মিলন বলেন, ওই স্থানে বালু মহলের যেসব সরঞ্জাম আছে সেগুলো সরানোর জন্য বলা হয়েছে। যদি তারা কেউ না শুনেন পরিবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।