ঢাকা | মার্চ ১২, ২০২৬ - ৩:২২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

গল্প মিতার চিঠি

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, January 10, 2021 - 11:02 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 186 বার

# শরীফ শামিল#

উৎসর্গ- Moumita Mou কে

প্রিয় কবি,
গুণী খুনী- দুটোই আপনি।!
আমি সাহিত্য বুঝতাম না। আপনার লেখা পড়েই, সাহিত্য প্রেমী হয়ে ওঠলাম। আপনার প্রথম লেখাটি পড়ে- লেখার প্রেমে পড়লাম। তারপর দ্বিতীয় লেখায় আরেকবার প্রেমে পড়লাম। এরপর বারবার…
নিষিদ্ধ কোনও কিছুর প্রতি আকর্ষণ ‘ রোলা বার্থ ‘ এর ” এক প্রণয়ীর প্রতর্ক ” আপনার কাছ থেকেই জেনেছি কবি। আপনার নিশি ডাক শব্দ ডাকও শুনে ফেলেছি আমি। প্রেম মানুষ কে শুধু সুখ আর আনন্দ ই দেয় না। দুঃখ কষ্টও দেয়।এ কষ্টের মাঝেও যে অন্যরকম শান্তি থাকে…
কবি
আপনার ” অনিরুদ্ধ পথিক” লেখক নামটি দেখে আর আপনার কবিতা গল্পে হিন্দুমিথ পুরাণ এর কথা শুনে ( পড়ে) শুনে, আমিও আপনাকে হিন্দুকবি মনে করতাম ( আপনি আমাকে জেমসএর মত হেই পাগলী বলে ওঠলেন! আপনার মুখ থেকে হেই পাগলী ডাকটা শুনে, কীযে হয়ে গেল আমার , কীযে হয়ে গেল আমার! সত্যি সত্যি পাগলী হয়ে ওঠলাম।)
আমি মুসলিম পরিবারের মেয়ে।একটু দমে গেছিলাম। গার্জিয়ান রা এদেশে এমনিতেই কোনও কবিকে সুপাত্র মনে করেন না।
ওহ কবি
আপনি যেদিন আমার সাথে সহমত পোষণ করে বললেন, যুগে যুগেই ( প্রতিষ্ঠিত না হলে) এদেশি কবি লেখকরাকে , পাত্র হিসেবে গণ্য করেন না- কোনও অভিভাবক।তবে মেয়েরা চিরদিন ই তাদেরকে কদর করে থাকে। শিল্প ও শিল্পীর কদর মেয়েরাই ভাল বোঝে। শুনে সহমতপোষণ করে আমি কীযে খুশি হয়েছিলাম… আপনি আরও বলেছিলেন, কবি লেখকদের কোনও জাত থাকে না। এখন আমার মনে হচ্ছে, প্রেমেরও কোনও জাত থাকে না।

আকাশপরীর মিথ কাহিনী আপনার একটা লেখা থেকে পড়েছিলাম। এক আকাশপরী মাটির পৃথিবীর এক যুবককে ভালবেসে ফেলেছিল। য়ুবক জানতোনা যে, সে আকাশপরী। মানব কন্যার রুপধারণ করে আসতো সে যুবকের কাছে।
একদিন পরীরা জানতে পারে যে, আকাশপরী মানব সন্তান কে ভালবেসেছে! পরীরাণী আকাশপরীকে বন্দী করে রাখে। এক বান্ধবী একদিন আকাশপরীকে মুক্ত করে দেয়।
পরী ফিরে আসে মানবপ্রেমিকের কাছে। দর্শনমাত্রই বিরহী প্রেমিক পরীকে জড়িয়ে ধরতে উদ্যত হলে, পরী না না করে ওঠে। সাবধানবাণী শোনায় তাকে: যদি তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরো তবে আমি চিরদিনের মত পাথর হয়ে যাব।- তবে এলে কেন? যুবক আহত হয়ে জানতে চায়।- কী করব, তুমি আমাকে এত ভালবাসো, তাই তোমাকে ও যে আমি ভালবেসেফেলেছি– তোমাকে না দেখেযে আমিও থাকতে পারি না।
মানবপ্রেমিক নাছোড় হয়। পরীকে জড়িয়ে ধরে। আর পরী তৎক্ষণাৎই পাথরমূর্তিতে পরিণত হয়।
কবি
আমি আপনার কাছে আমার ছবি পাঠিয়েছিলাম একটা। ওই ছবি বুকে নিয়ে সারারাত নাকি ঘুমিয়েছিলেন আপনি। পরদিন আপনি ” ছবিবউ” নামে একটি কবিতা লিখেছেন। শেষ লাই ন ছিল এটা: তোমার সুগন্ধি ‘ গ্রিনোয়েল” এর ” পারফিউম” এর চেয়ে দামী।
কবি
আপনার লেখার সব মানে নাবুঝেও আনন্দ পাই আমি।

এখনও কলেজ বন্ধ। দেশেরবাড়িতে আমি। ঢাকায় আমার চাচাতো বোনের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতাম। বোন আমার মাবাবাকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমি একজন কবির সাথে জড়িয়ে পড়েছি।
আমার বর দেখা চলছে। বিয়ে দিয়ে দেবেন তাঁরা। জবেহ করা কবুতর এর মত ছটফট করছি আমি।
প্রিয় ঢাকাশহরে ফিরব আমি। আকাশপরী হয়ে আমার প্রিয়কবির কাছে যাব। বলব, কবি জড়িয়ে ধরুন আমাকে। আমিও পাথরমূর্তি হব। নিশ্চয় পাথরমূর্তির বুকে আর কোনও জাগতিক কষ্ট থাকবেনা।
ইতি
আপনার
মিতা হক।