ঢাকা | জুলাই ৪, ২০২৬ - ৫:৩২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

সিলেটে ডিসি সারওয়ার আলমের প্রত্যাহার: স্বচ্ছতা উদ্যোগে আলোড়ন, প্রশ্নের মুখে দরগাহ ফান্ড ব্যবস্থাপনা

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Saturday, July 4, 2026 - 9:27 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 26 বার
সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান-খয়রাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার তার উদ্যোগ জনমনে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের ডিসি পদ থেকে প্রত্যাহার করে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের আগে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তার নেওয়া একাধিক পদক্ষেপ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।
গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে ডিসি সারওয়ার আলম দানবাক্সে তালা দেওয়া এবং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ১৮ জুন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঐতিহ্যবাহী তিনটি বড় ডেগ সিলগালা করা হয় এবং জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য মোতায়েন ও সিসিটিভি স্থাপন করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২২ জুন প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করা হয়, যা মাজারের ইতিহাসে প্রথম। গণনায় নগদ ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৯ টাকা, ৭ আনা স্বর্ণ এবং ১০ সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া দেখা যায়।
তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে ভক্তদের একটি অংশ ধর্মীয় ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে সচেতন নাগরিকদের বড় অংশ ডিসি সারওয়ার আলমের সততা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের প্রশংসা করে তার প্রত্যাহারের সমালোচনা করেছেন। তাকে পুনর্বহালের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ ও সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মাজারের দান-খয়রাতের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ছিল। প্রতিদিন ডেগে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা পড়ার তথ্য সামনে আসায় সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। অনেকের মতে, এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হলে মসজিদ নির্মাণ, দরিদ্রদের সহায়তা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নসহ নানা কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
ডিসি সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে কেউ স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলেও অনেকেই এটিকে একটি সাহসী উদ্যোগের অকাল সমাপ্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন। বিদায়ের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে তার উদ্যোগ একটি নজির স্থাপন করেছে বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এখন দেখার বিষয়, তার শুরু করা স্বচ্ছতার প্রক্রিয়া কতটা অব্যাহত থাকে এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হয়।