দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র তাপদাহে একদিনে রেকর্ড ১৮৬ জন অসুস্থ, প্রাণ গেল আরও ২ জনের
সালেহ আহম্মদ, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধি: দক্ষিণ কোরিয়ায় চলমান তীব্র তাপদাহে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ হিট-রিলেটেড (তাপজনিত) অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার দেশজুড়ে ১৮৬ জন তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হন এবং আরও দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে কোরিয়া ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এজেন্সি (KDCA)।
গত বছরের একই দিনে যেখানে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৮ জন, সেখানে চলতি বছরের এ সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে ১৮৬ জনে পৌঁছেছে।
তাপজনিত অসুস্থতায় সন্দেহভাজন দুই মৃত্যুর ঘটনাই উত্তর জিওল্লা প্রদেশের ওয়ানজু এলাকায় ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে একজন নব্বই বছরের একজন নারী, যাকে একটি কৃষিক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। অপরজন আশির কোঠার এক বৃদ্ধ, যাকে সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। KDCA জানিয়েছে, দুজনেরই আগে থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা ছিল।
অঞ্চলভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ৩৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে গিয়ংগি প্রদেশে। এরপর রয়েছে সিউলে ২৩ জন, দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশে ২১ জন, গুয়াংজু ও দক্ষিণ জিওল্লা প্রদেশে ১৮ জন করে, ইনচনে ১৫ জন এবং দক্ষিণ চুংচিয়ং প্রদেশে ১৩ জন।
তাপজনিত রোগীদের পর্যবেক্ষণে KDCA গত ১৫ মে থেকে দেশব্যাপী ৫১৬টি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে জরুরি বিভাগভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে।
চলতি বছরের সোমবার পর্যন্ত মোট ২,২২১ জন তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে তাপদাহে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরমে থাকার ফলে তাপজনিত অসুস্থতা দেখা দেয়। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, পেশিতে খিঁচুনি, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এসব পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হতে পারে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনগণকে তীব্র গরমের সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার, ছায়াযুক্ত বা শীতল স্থানে নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়ার এবং তৃষ্ণা লাগার আগেই পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে। তাপজনিত উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অথবা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সিউল ও গিয়ংগি প্রদেশের কিছু এলাকায় কোরিয়া আবহাওয়া প্রশাসন (KMA) প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ স্তরের ‘হিট ওয়েভ ইমার্জেন্সি ওয়ার্নিং’ জারি করেছে। রাজধানীর গাংনাম ও গুরো জেলার কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা সমান রেকর্ড করা হয়েছে।
KMA জানিয়েছে, কোনো এলাকায় তাপপ্রবাহ সতর্কতা কার্যকর থাকা অবস্থায় যদি অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়ার পূর্বাভাস থাকে, অথবা দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকে, তাহলে নতুন এই জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহ অন্তত আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।








