কবিতা “ঝরা পাতার নীরবতা” বিচিত্র কুমার
হেমন্তের বিষণ্ণ বিকেলে, ঝরা পাতার কান্না,
তোমার স্মৃতির ছায়ায় মেলে নীরবতার যন্ত্রণা।
বাতাসে ভেসে আসে হারানোর সুর,
তুমি যেন দূরে দাঁড়িয়ে, আকাশের নীলে মিলিয়ে যাও অনন্ত দূর।
তোমার চোখের গভীরতা ছিল নদীর তলদেশের মতো নিঃশব্দ,
আমার হৃদয়ে ছুঁয়ে দিয়েছিলে শীতল ভালোবাসার শপথ।
কিন্তু হেমন্তের সোনালি রোদে তুমি মিলিয়ে গেলে,
ঝরা পাতার মতোই মাটির বুকে ঢলে পড়লে—নিস্তব্ধ, নীরব, নির্ভীক।
আজো সেই পাতাগুলো খসে পড়ে নিঃশব্দে,
তোমার স্পর্শ যেনো সেখানেই লুকিয়ে, অদেখা এক বন্ধনে।
তোমার চলে যাওয়ার প্রতিটি মুহূর্তে, বাতাসে খুঁজে ফিরি তোমার মুখ,
কিন্তু হেমন্তের সাথে ভেসে গেছে আমাদের সেই স্বপ্নের উচ্ছ্বাস, মেঘের দুঃখ।
০২. শীতল হাওয়ার কাব্য- বিচিত্র কুমার
হেমন্তের শীতল হাওয়ায় তোমার হাসি ছিলো, শিউলির মতন কোমল,
তোমার নরম ছোঁয়ায় যেনো মনের ভিতর গড়েছিলো এক ভাঙা কোলাহল।
তুমি ছিলে পূর্ণিমার রাতের মতো শান্ত, অথচ অচেনা,
তোমার প্রতিটি কথা ছিলো মিষ্টি, যেনো হাজারো সুরের বাঁধা এক বন্দনা।
তোমার চোখে ছিলো আকাশের নীলাভ গভীরতা,
তোমার ঠোঁটে লেগেছিল ভালোবাসার সূক্ষ্ম মিষ্টি কথা।
আমাদের সেই রাতগুলো ছিলো পূর্ণিমার আলোয় ভরা,
তোমার প্রতিটি শ্বাসে আমার হৃদয়ে ফুটে উঠতো বসন্তের ছোঁয়া।
কিন্তু হেমন্তের শেষের হাওয়ায় তুমি হয়ে গেলে ফিকে,
তোমার ছায়া এখন শুধু স্মৃতির আলিঙ্গনে লেগে থাকে।
আমার পৃথিবী আজ শূন্য, তোমার ছাড়া,
তবুও হেমন্তের বাতাসে, আমি খুঁজে ফিরি তোমার হারানো ভালোবাসার আঁচড়।
০৩. নীল কুয়াশার ভালোবাসা- বিচিত্র কুমার
হেমন্তের নীল কুয়াশায় তোমার চোখের চাঁদনী,
তুমি ছিলে আমার স্বপ্নের এক অমলিন চিঠি।
তোমার চুলের সুবাসে ছিলো কুয়াশার ছোঁয়া,
তুমি ছিলে সেই নক্ষত্র, যা মিশে গিয়েছিলো আকাশের বিশালতায়।
তোমার হাসিতে ফুটে উঠতো আমার সমস্ত পৃথিবীর রঙ,
তুমি ছিলে সেই এক আশ্রয়, যেখানে হারিয়ে যেতো দিনের সমস্ত ধ্বংস।
তোমার কণ্ঠের সুর ছিল আমার জীবনকে জাগানো,
তুমি ছাড়া আজও সেই হেমন্তের ভোরে কেবল শুনি নিঃশব্দ অভিমান।
তুমি নেই, কিন্তু কুয়াশার পর্দায় আজও তোমার প্রতিচ্ছবি,
আমার হৃদয়ের অলিন্দে ভেসে বেড়ায় তোমার ভালোবাসার আবেশ।
এই নিঃসঙ্গ হেমন্তে, প্রতিটি ঝরা পাতায় মিশে থাকে তোমার ছোঁয়া,
তুমি আছো, নেই—তবু প্রতিটি শীতল বাতাসে, তুমি আমার অনন্ত।








