ঢাকা | জুন ১২, ২০২৬ - ১:৫৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

গ্রাম আদালত হলো ক্ষুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ও সময়সাশ্রয়ী ব্যবস্থা-ইউএনও আরিফুল ইসলাম

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, June 10, 2026 - 10:06 am
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 14 বার

আরিফ রব্বানী, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেছেন- গ্রাম আদালত হলো স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ও সময়সাশ্রয়ী ব্যবস্থা। জনগণকে সহজে, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে গ্রাম আদালতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা আনয়ন এবং জনসচেতনতা তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সকল পেশাশ্রেণীর ব্যক্তিদের এগিয়ে আশার আহবান জানিয়ে তিনি আরও -সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জন-প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। জনগণ যাতে সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তুলতে হবে।

অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালত এই শ্লোগানে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে
উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষের হলরুমে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয় করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশ গ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী কৃষ্ণ চন্দ্র রায় এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি সৈয়দা তামান্না হুরায়রা। এ সময় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও মানবিক হতে হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে অনেক বিরোধ ও সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ সহজে ন্যায়বিচার পাবে। এক্ষেত্রে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকরা যেন সেবার জন্য এসে সন্তুষ্ট হয়ে ফিরতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে যেসব ইউনিয়নে মামলার সংখ্যা কম বা শূন্য, সেখানে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক বিরোধ, চুক্তি বা রশিদভিত্তিক অর্থ আদায়, অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা তার মূল্য আদায়, স্থাবর সম্পত্তি বেদখলের এক বছরের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধার, অস্থাবর সম্পত্তি জবরদখল এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলাসহ বিভিন্ন বিরোধ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায়।

তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সেবাসমূহ সাধারণ মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান কৃষ্ণ রায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু আহসান মোঃ রেজাউল হক,উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শরীফ আহাম্মদ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প সমন্বয়কারী আবু সামিউল প্রধান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রোগ্রাম অফিসার নাসিমা খাতুন,ব্র্যাক ময়মনসিংহের শাখা ব্যাবস্থাপক কানিজ ফাতেমা,স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি ময়মনসিংহের প্রকল্প ব্যাবস্থাপক ইমন সরকার,মাটি সমিতির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সানজিদা আক্তার বর্ষা, পিসিসি কালিঝুলি ময়মনসিংহের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর রাজন বিন,ব্যুরো বাংলাদেশ সমিতি ময়মনসিংহের তালতলা খাগডহর শাখার আঞ্চলিক উর্ধতন কর্মসূচি সংগঠক কৃষি রবিউল ইসলাম,উপজেলা উমেন ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলেটর সানজানা আফরোজ পপি প্রমুখ।