সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ১কোটি ৯৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ
আরিফ রববানী, ময়মনসিংহ : সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি এবং নিহতদের পরিবারের মাঝে ১কোটি ৯৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ড।
শুক্রবার (১৯জুন) সকালসাড়ে ১১টায় ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪ ও আহত ১৬জন সহ মোট ৫০জন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মনোনীত সদস্যদের মাঝে এই চেক বিতরণ করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
এসময় আহতদের প্রত্যেককে ১ থেকে ৩ লাখ টাকা এবং নিহতদের স্বজনদের ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। জেলায় ৫০টি চেকের বিপরীতে মোট ১ কোটি ৯৬লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আহত ১৪ জনের জন্য ২-৩ লাখ এবং নিহত ৩৪ জনের পরিবারের পান ৫লাখ টাকা।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে-সকলকে রাস্তা পারাপারের সময় দৈর্য ধারণ করে সতর্কতার সহিত পার হওয়ার আহবান জানান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং নিহতদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুময়ুন কবিরের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সরকার,ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান,
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান,
স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ) উম্মে হাবিবা মীরা,মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি নজরুল ইসলাম সহ পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুময়ুন কবির বলেন- দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে দ্রুততম সময়ে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ময়মনসিংহ বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) আনিসুর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজন ৫লাখ টাকা এবং আহতদের মধ্যে যারা সম্পূর্ণ আগের অবস্থায় ফিরতে পারেন তারা তাদের ২থেকে ৩ লাখ এবং যারা আগের অবস্থায় ফিরতে পারেন না তারা অবস্থা বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণ পান।
অনুষ্ঠানে বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, ‘ধনী-গরিব সবাই এই ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। কিন্তু অনেকেই না জানার কারণে এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না, কিন্তু একটি পরিবার সাবলম্বী হওয়ার পথ পায়।
বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনা কবলিত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত প্রমানাদিসহ নির্ধারিত ফরমে নিহত কিংবা গুরুতর আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে, তা ট্রাস্টি বোর্ডে যাছাই-বাছাই পূর্বক অর্থ সহযোগিতা মঞ্জুর করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।








