ভুয়া ফেসবুক আইডি দিয়ে অপপ্রচার অতিষ্ঠ নাচোলের মানুষ” ডিপজল আমেরিকা আইডির নামে থানায় জিডি
মো: নাসিম, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি :চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে অপপ্রচার চালাছে বেশ কয়েকটি ফেসবুক আইডি এর মধ্যে ডিপজল আমেরিকা নামে facebook ফেক আইডি অন্যতম। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এই মর্মে ভুক্তভোগী ১৬/০৭/২০২৬ তারিখে:- নাচোল থানা একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
জিডি ট্রাকিং নং: BINYIF, জিডি
নং: ৭১৬,এই মর্মে জানাইতেছি যে, আমি নাচোল সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত আছি। ইং ১৬/০৭/২৬ তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকায় কালইত নামক স্থানে আমার অফিসে অবস্থান কালীন সময় আমার মোবাইল এর মাধ্যমে ফেসবুক আইডি MD Faruk Hosen Dipjol আইডি Donghttps://www.facebook.com/share/1CghiqFish/) প্রবেশ ফেসবুক করে America(https://www.facebook.com/share/1Csfitgükb/) দেখিতে পাই যে, অজ্ঞাতনামা পরিচয়ধারী কে বা কাহারা মোবাইল/ল্যাপটপ/কম্পিউটার হইতে অথবা অন্য কোন উপায়ে আমার নামে এবং নাচোল থানা এলাকায় নিয়োজিত বিভিন্ন প্রেসক্লাবের
সাংবাদিকদের নামে অপপ্রচার, হুমকি প্রদান বা অশ্লীল গালাগাল করা হয়েছে। আমি বিভন্ন ভাবে চেষ্টা করিয়া উক্ত আইডি বা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সনাক্ত করিতে ব্যর্থ হই। উল্লেখ্য যে, এই বিষয়ে সুনিদ্রিষ্ট তথ্য উপাত্ত না থাকায় আপাদত বিষয়টি সাধারাণ ডাইরীভুক্ত করিয়া রাখা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে/প্রয়োজন সাপেক্ষে মামলা করার জন্য পুনরায় মামলা করার জন্য আবেদন করা হবে।
এই বিষয়ে পুলিশ জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে মানহানিকর পোস্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভয়ভীতি ছড়াছে। এছাড়া উড়ো চিঠি ও মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর নকল করেও প্রতারণা চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ সুকমল চন্দ্র দেবনাথ তিনি জানান, অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যও পাওয়া গেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার এখন নতুন ধরনের সামাজিক সন্ত্রাসে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভয়েস ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কাউকে অপমান, ভয়ভীতি বা চাঁদাবাজির শিকার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে হবে, অপরাধে নয়।” সিনিয়র সাংবাদিক মতিউর রহমান বলেন,
“ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইল কোনো সাংবাদিকতা নয়, এটি স্পষ্ট সাইবার অপরাধ। দ্রুত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।” প্রবীণ সাংবাদিক কে,এম, জিলানী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ছড়ানোর প্রবণতা সমাজের জন্য বিপজ্জনক। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এ ধরনের বিভিন্ন অপকর্মের জড়িত ব্যক্তিরা একটি সিন্ডিকেট, এই সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করা এবং সন্দেহজনক আইডি বা কনটেন্ট দ্রুত রিপোর্ট করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও বাড়াতে হবে।








