তানোরে জামায়াতের প্রতিবাদের মুখেই বিএনপির নারী এমপির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন
সোহানুল হক পারভেজ রাজশাহী ব্যুরো প্রধান :রাজশাহীর তানোরে নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে বাদ রেখে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যকে দিয়ে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও একটি কলেজের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরপর দুদিন প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভা করেছে উপজেলা
জামায়াতে ইসলামী।তবে জামায়াতের এসব কর্মসূচি ও প্রতিবাদকে উপেক্ষা করেই মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও কৃষ্ণপুর বায়তুননুর দাখিল মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং কয়েল হাট ডিগ্রি কলেজের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হাবিবা খাতুন।জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে তানোরের কৃষ্ণপুর মহিলা কলেজে নেতাকর্মীদের জন্য দুপুরের ভোজের বিশেষ আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের কলেজে উপস্থিত রেখে ক্লাস বন্ধ করে কলেজ ফান্ড বা নিজস্ব তহবিলের টাকায় প্রায় সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষের খাবারের
আয়োজন চলে সকাল থেকেই।এর আগে মঙ্গলবার সকালে কৃষ্ণপুর মোড়ে প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভা করে জামায়াত। এর আগের দিন সোমবার তানোর থানা মোড়েও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করে তারা। কৃষ্ণপুর মোড়ের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলমগীর হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা আনিসুর রহমান, সেক্রেটারি ডিএম আক্কাস আলী ও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাজী আফজাল হোসেন।সমাবেশে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করে বলেন,
স্থানীয় দলীয় প্রভাবে নির্বাচিত এমপিকে অবজ্ঞা করে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিকে দিয়ে ভবনগুলো উদ্বোধন করানো হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন দলীয়করণ ও উন্নয়ন কাজে বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।এ বিষয়ে কৃষ্ণপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারোয়ার হোসেন জানান, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ভবনগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়েছে। কলেজ চত্বরে খাবারের আয়োজনের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই কলেজের খরচে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে এবং ক্লাসও পরিচালনা করা হয়েছে।
কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান বলে নিশ্চিত করেন তিনি।এদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তানোরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী দীনেশ শীল জানান, বিভাগীয় কাজ নির্মাণ সম্পন্ন করা। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন।সার্বিক বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে পূর্বে অবগত ছিলেন না। তবে কলেজের তহবিলের টাকা ব্যবহার করে ভূরিভোজ আয়োজনের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।








