ঢাকা | আগস্ট ১৯, ২০২৬ - ১০:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

বাগেরহাটে ফলতিতা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ১৩ দোকান

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Wednesday, August 19, 2026 - 3:16 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 7 বার

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনঘেঁষা বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩টি ছোট-বড় দোকান পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আগুনে দোকানগুলোর নগদ টাকা, খাদ্যসামগ্রী, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফলতিতা বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজার এলাকায়।

খবর পেয়ে ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার টানা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে ১৩টি দোকান ও দোকানের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

পুড়ে গেছে মিষ্টি, খাবার ও মুদি দোকান

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি দোকানের মধ্যে দুটি মিষ্টির দোকান, দুটি ভাতের হোটেল, দুটি মুদি দোকান, একটি ফাস্টফুডের দোকান এবং অন্যান্য খাবারের দোকান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাতের শেষভাগে বাজারে অধিকাংশ দোকান বন্ধ থাকায় আগুন লাগার বিষয়টি শুরুতে অনেকের নজরে আসেনি। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন।

সর্বস্ব হারিয়ে পথে দোকানিরা

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার আরিফ শেখ, মো. বক্কার, নিমাই, রূপ সাহাসহ অন্যান্যরা জানান, তারা ভোর ৪টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে দোকানে ছুটে আসেন। এসে দেখতে পান তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসার জায়গা ও দোকানের সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

দোকানিরা বলেন, দোকানে থাকা নগদ টাকা, মালামাল, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আগুনে তাদের ব্যবসার মূলধন ও জীবিকার অবলম্বন একসঙ্গে পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা

ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহাজাহান মিয়া বলেন, “বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।”

তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত কারণ তদন্তের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ফলতিতা বাজারের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজারের দোকানগুলোতে বৈদ্যুতিক সংযোগ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজারে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও জরুরি প্রবেশপথ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

আগুনে মুহূর্তেই পুড়ে গেছে ১৩টি পরিবারের স্বপ্ন ও জীবিকার অবলম্বন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সহযোগিতার প্রত্যাশায় রয়েছেন।

ছবি: সংযুক্ত