ঢাকা | মার্চ ১২, ২০২৬ - ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

নরসিংদীতে মেঘনায় শুকনো মৌসুমেও নদী ভাঙ্গন,ফসলি জমি উধাও

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Sunday, January 10, 2021 - 10:37 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 85 বার

হারুনুর রশীদ বিশেষ প্রতিনিধি : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নের মধ্যে নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নসহ আরও ৩টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি গ্রাস করছে ভয়াল মেঘনা। রাতারাতি অনেক জমি চলে যাচ্ছে নদীর বুকে।

উপজেলার পলাশতলি, ইউনিয়নের শুকনো মৌসুমেও মল্লিকপুর, শাহপুর, বল্লবপুর,বড়ইতলা গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। মেঘনার ভাঙনে পলাশতলী ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামটি পুরোপুরি বিলীন হওয়ার পথে। এতে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হওয়ার চিন্তায় চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় আঃ রাশেদ (৭০) বলেন , আমাদের ঘরবাড়ি আগেই নদী নিয়ে গেছে। গত সপ্তাহে এক ঘণ্টার মধ্যে কয়েক একর জমি তলীয়ে গেছে এক নিমিষেই। এর থেকে পরিত্রাণ চাই।
মুর্শেদ আলম মোল্লা (৬০) বলেন, এক ঘণ্টায় আলু, টমেটো, সরিষা, পেয়াজ, রসুনের জমি নিয়ে গেলো চেয়ে চেয়ে দেখলাম কিছুই করার ছিলনা। আমরা কৃষি কাজেই নির্ভরশীল এভাবে নদী ভাঙন হলে কি নিয়ে চলবো খুব চিন্তিত। গৃহিণী রুশনারা জানান, আগেই নদী ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি ফসলি জমি চলে গেছে মানুষের বাড়িতে ছিলাম কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে।
আক্তারুজ্জামান জানান, মল্লিকপুর গ্রামটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। ইতিপূর্বে ১৯৭১ সালে এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ক্যাম্প স্মৃতি ফলকসহ মসজিদ, খেলার মাঠ, ঘরবাড়ী চোখের সামনে নদী গর্ভে চলে যেতে দেখেছি। নদীর বাক ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে ভাঙ্গনে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে আমরা স্বস্তি পাবো। যার ফলে পর্যটক এলাকা হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
পলাশতলী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক মোল্লা বলেন, ১ শত বছর যাবত নদী ভাঙ্গন চলে আসছে ফলে শাহপুর, মল্লিকপুরের হাজার হাজার একর জমি চলে গেছে। এমনি ভাবে চললে ভেঙ্গে রেললাইন পর্যন্ত আসতে পারে। নদী ভাঙন রোধ করার জন্য প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।
পলাশতলি ইউপি চেয়ারম্যান মো জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, নদী ভাঙন রোধ করার জন্য উপজেলা সমন্বয়ক মিটিং এর রেজুলেশন মাননীয় (এমপির) ডিউ লেটার মন্ত্রণালয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস ছাদেক বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এটা একটা বিরাট প্রকল্প । উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে এলাকার জনগনের জন্য সরকারের কাছে আমার ও এমপি মহোদয়ের ডিউ লেটারগুলো পাঠানো হবে। আশা করি এ প্রকল্পের ফলপ্রসূ পদক্ষেপ আসবে। ইতোপূর্বে চরমদূয়া, মির্জারচর, চাঁনপুর ইউনিয়নের নদী ভাঙন রোধ করার জন্য প্রকল্প (একনেকে) পাশ হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলে আপাতত কিছু বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করা যায় কি না সে ব্যাপারে পরামর্শ করা হবে।
মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে মল্লিকপুরসহ, বড়ইতলা, শাহপুর, মহিষবের, বল্লবপুর, গ্রামগুলো। উপজেলায় মেঘনার ব্যাপক ভাঙনে খেলার মাঠ, মসজিদ, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক, ঘরবাড়ি সহ ফসলি জমির হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে শতাধিক পরিবার।

ঘরবাড়ি ও জমিহারা অসহায় পরিবারগুলো নদী ভাঙনের হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার আশায় সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
(সম্পাদকের বার্তা: এই প্রতিবেদনটি করেছেন প্রতিবেদক হারুনুর রশিদ ।এই অঞ্চলের অন্যায়,অনিয়ম অথবা সামাজিক কাজের তথ্য দিতে এই নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ রইলো ০১৯১২৫২৭০৫১/০১৭১৭৭৩৭২৬৬)