মহেশখালীতে বন বিভাগের নার্সারিতে বিষ প্রয়োগ
মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীনমহেশখালী(কক্সবাজার) : ৪ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর মিটাছড়ি ছড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় গড়ে তোলা বন বিভাগের চারা উৎপাদন কেন্দ্রে এক ন্যাক্কারজনক ও বর্বর ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে বন বিভাগের সরকারি নার্সারিতে অতিমাত্রায় বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১০ হাজার চারা গাছ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় এই সবুজায়ন উদ্যোগকে সফল করতে মিটাছড়ি ছড়া এলাকায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ এই চারা নার্সারিটি গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে সরকারিভাবে রোপণের জন্য পরম যত্নে বেড়ে উঠছিল দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ। কিন্তু গভীর রাতে কতিপয় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে নার্সারিতে প্রবেশ করে গাছের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক বিষাক্ত কেমিক্যাল বা বিষ প্রয়োগ করে।
সরকারি ও জাতীয় এই কর্মসূচির নার্সারিতে এমন জঘন্য হামলার পর থেকে পুরো শাপলাপুর ও মিটাছড়ি ছড়া এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবান্ধব জাতীয় মহাপরিকল্পনাকে নস্যাৎ করার একটি বড় অপচেষ্টা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত।
এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে এই পরিবেশবিধ্বংসী অপরাধের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত মূল হোতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুষ্কৃতকারীরা রাতে নার্সারিতে অতি মাত্রায় বিষ প্রয়োগ করায় বন বিভাগের প্রায় ১০ হাজার চারা গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারি সম্পদ ধ্বংসের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
নষ্ট হওয়া চারাগুলোর প্রতিটি প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট ফুট লম্বা ও পরিপুষ্ট হয়ে উঠেছিল, যা মাঠপর্যায়ে রোপণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। ধ্বংস হওয়া চারাগুলোর মধ্যে ছিল বহেরা, গামার, শিমুল, আমলকি, কড়ই ও কাঠবাদামসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মূল্যবান গাছ।








