পঞ্চগড়ে ৫,৮৯০ কৃষকের ৮.৭৩ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ
স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টার:পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, সরকারের পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। বিগত দিনের মতো কেউ যদি সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কারসাজির চেষ্টা করে, তাহলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমন ব্যক্তিকে দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি নির্দেশনা দেন।
রোববার (তারিখ) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোদা মডেল পাইলট সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত কৃষি ঋণ মওকুফ সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকেরা যাতে নির্বিঘ্নে কৃষিকাজ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে তারেক রহমানের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষক উন্নত হলে দেশের উন্নতি হবে এবং কৃষক স্বাবলম্বী হলে দেশও স্বাবলম্বী হবে। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। তাই সার নিয়ে সংকট সৃষ্টি বা কারসাজি করলে সে যে দলের, যে মতের বা যে ধর্মেরই হোক না কেন, এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় বা আপস করা হবে না।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বহুমাত্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করেন। ১৯৭৮-৭৯ সালে তিনি প্রথম ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় স্বল্প সুদে ও বিনা জামানতে কৃষি ঋণ চালু করেন এবং ১০০ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি কৃষি শস্য উৎপাদন তহবিল গঠন করেন।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে কৃষি ঋণের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কৃষকদের বিভিন্ন খাতে নেওয়া ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলাপি কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেন। ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর তিনি ‘প্রতিটি বাড়ি হবে ক্ষুদ্র খামার’ ধারণাকে সামনে রেখে গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগি, মাছসহ বিভিন্ন খাতে বিনা জামানতে কৃষি ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করেন।
অনুষ্ঠানে বোদা উপজেলার ৫ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের মধ্যে মোট ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের সনদপত্র বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি কৃষককে পাঁচটি করে মোট ২৯ হাজার ৪৫০টি ফলজ, বনজ ও অন্যান্য গাছের চারা প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার আবু সাইম, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহেমদ রাশেদ উন নবী।
এ সময় বোদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপির সভাপতি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের অংশগ্রহণে ‘কৃষক আনন্দ মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় কৃষকদের নিয়ে বিভিন্ন খেলাধুলা ও আনন্দঘন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।








