সখিপুরে জমি-ফসল ও ওয়ারিশি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
শরিফুল ইসলাম বাবুল, সখিপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের সখিপুরে জমি, ফসল ও ওয়ারিশি সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ইসলামে সখিপুর প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোছা. নুরুন্নাহার বেগম।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নুরুন্নাহার বেগম সখিপুর উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের জামালহাড়কুড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, ১৯৯৩ সালের ২৫ আগস্ট তাঁর মা গোবরচাকা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ মাস্টারের কাছ থেকে ৩৯৯০ নম্বর দলিলমূলে ৭০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর থেকে তাঁর মা দীর্ঘদিন ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
নুরুন্নাহার জানান, তাঁদের বসতবাড়ি জমি থেকে দূরে হওয়ায় নিয়মিত সেখানে গিয়ে চাষাবাদ করা তাঁদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এ সুযোগে আব্দুল হামিদ মাস্টার নিজেই জমিটি চাষাবাদ করে উৎপাদিত ফসলের প্রাপ্য অংশ তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে তাঁকে জমি চাষাবাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রথম দিকে কয়েক বছর তিনি নিয়মিতভাবে তাঁদের প্রাপ্য ফসলের অংশ বুঝিয়ে দিলেও গত কয়েক বছর ধরে তা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ নুরুন্নাহারের।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর মায়ের পৈতৃক ও ওয়ারিশি সম্পত্তিতেও তাঁদের আইনগত প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে বারবার অনুরোধ করা হলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
নুরুন্নাহারের দাবি, জমি, ফসল ও ওয়ারিশি সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা চাইতে গেলে তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি ওই জমিতে প্রবেশ করলে কিংবা জমির ওপর দাবি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে বলে জানান নুরুন্নাহার। তবে তাঁর অভিযোগ, সালিশে সিদ্ধান্ত হলেও তা মানা হয়নি। পরে তিনি সখীপুর থানায় অভিযোগ করেন। থানার পক্ষ থেকে বিবাদীকে একাধিকবার উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বলা হলেও তিনি যথাযথভাবে সাড়া দেননি বলে দাবি তাঁর।
নুরুন্নাহার বলেন, “আমরা কারও সম্পত্তি দখল করতে চাই না। আমরা শুধু আমার মায়ের বৈধভাবে ক্রয় করা ৭০ শতাংশ জমির অধিকার, ওই জমিতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য অংশ এবং ওয়ারিশি সম্পত্তিতে আইনগতভাবে প্রাপ্য হিস্যা চাই। একই সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের সংঘাত বা ঝামেলা চান না তাঁরা। আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান এবং তাঁদের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ মাস্টারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সম্পত্তি ও ফসলের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত এবং তাঁদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হামিদ মাস্টারের বক্তব্য নিতে তার কোন ফোন নাম্বার পাওয়া যায়নি।তার ছেলের বউয়ের একটি নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন ধরে নাই তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।








