ঢাকা | জুলাই ৪, ২০২৬ - ১:১৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পঞ্চগড়ে ‘জোনাকী’ ব্র্যান্ডের নকল কয়েল বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Friday, July 3, 2026 - 5:04 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 13 বার

স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টারঃদীর্ঘদিন ধরে ‘জোনাকি’ ব্র্যান্ডের মোড়ক ও ট্রেডমার্ক নকল করে মানহীন মশার কয়েল বাজারজাতের অভিযোগে দুলাল হোসেন (৪৬) নামে পঞ্চগড়ের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। এদিন তার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্ত দুলাল হোসেন পঞ্চগড় শহরের কামাত পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পঞ্চগড় বাজারের একজন ব্যবসায়ী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় মাস আগে কোম্পানির কাছে তথ্য আসে, দুলাল হোসেন ‘জোনাকী’ ব্র্যান্ডের মশার কয়েলের নাম, ট্রেডমার্ক ও মোড়ক নকল করে জাল পণ্য বাজারজাত করছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুম উদ্দৌলার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তার দোকান থেকে ৭০ কার্টন নকল কয়েল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত পণ্য ধ্বংস করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, এরপরও তিনি গোপনে একই ধরনের নকল পণ্য বাজারজাত করতে থাকেন। নিম্নমানের কয়েল কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেন বিভিন্ন ক্রেতা। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে পঞ্চগড় বণিক সমিতির কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়। সমিতির পক্ষ থেকেও তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুন পঞ্চগড় শহরের অগ্রদূত হোটেল প্যালেসে কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে দুলাল হোসেন জোনাকি ব্র্যান্ডের নামে নকল কয়েল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু পরে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে পুনরায় নকল কয়েল প্রস্তুত ও বিক্রি অব্যাহত রাখেন। এতে কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

কসমো কনজুমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, একাধিকবার আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান হয়েছে, বণিক সমিতির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে, এমনকি আলোচনার টেবিলেও বসেছি। কিন্তু সবকিছুর পরও তার নকল পণ্য বিক্রি বন্ধ হয়নি। এতে কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তারাও প্রতারিত হয়েছেন। তাই বাধ্য হয়েই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।