ঢাকা | মে ১৬, ২০২৬ - ৭:৪৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ

পুরনো ঢাকায় দখল ও চাঁদাবাজির বেপরোয়া অভিযোগ উঠেছে সাবেক কাউন্সিলর মামুনের বিরুদ্ধে

  • দৈনিক নবোদয় ডট কম
  • আপডেট: Saturday, May 16, 2026 - 12:49 pm
  • News Editor
  • পঠিত হয়েছে: 10 বার

স্টাফ রিপোর্টারঃ পুরনো ঢাকায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুন এর বিরুদ্ধে দখলবাণিজ্য ও চাঁদাবাজির বেপরোয়া অভিযোগ উঠেছে, এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

নবাবপুরে সংখ্যা লগু সম্প্রদায়ের শুভ বসাক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে নির্মাণ কাজ করার সময় মামুনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলে জানা গেছে । নবাবপুর ২২১ ও ২২২ নম্বর এলাকায় একটি বাড়িতে ঐ চাঁদাবাজির অভিযোগে মামুনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যাহার সিআর মামলা নম্বর ১৯৩৪/২০২৪, ধারা ৩২৩/৩৭৯/ ৩৮৫/৩৮৭/৪২৭/৫০৬ পেনাল কোড। ‘শরীফ আদমীর’ আড়ালে একের পর এক অপকর্ম করে চলেছেন। তিনি ক্ষমতার অদৃশ্য বলয়কে কাজে লাগিয়ে নবাবপুর, ফুলবাড়িয়া ও সিদ্দিক বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

মামুন আহমেদ বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এর পদ পদবী কাজে লাগিয়ে জনকল্যাণমূলক মানব সেবার আড়ালে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। তার এবং সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কেহ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। তিনি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির স্বঘোষিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর, ক্ষমতার পট পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে মামুন ও তার ঘনিষ্ঠরা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এরই অংশ হিসেবে জাকের সুপার মার্কেট, সিটি প্লাজা ও নগর প্লাজাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে এসব মার্কেটে দোকান বরাদ্দ, ভাড়া নির্ধারণ, পুনর্বিন্যাস এবং নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সেই সাথে তার ভাই ফারুক, কাশ্মীর লিটন, শুক্কুর, মনু ও মোক্তার হোসেন দখল-চাঁদাবাজিতে সক্রিয় হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসাবাড়ীর অনেক লোকজন ভয়, আতংক উৎকন্ঠায় দিনযাপন করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

শুধু মার্কেটেই নয়, মামুনের চাঁদা আদায়ের থাবা পড়েছে পরিবহন খাতেও। দক্ষিণবঙ্গগামী বিভিন্ন পরিবহন থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ইমাদ পরিবহন, গোল্ডেন লাইন, ইলিশ, দোলা, প্রচেষ্টা, মহানগর, আনন্দ, মাওয়া এক্সপ্রেস, তাহসিন এন্টারপ্রাইজ, স্বাধীন এন্টারপ্রাইজ, নবকলি এক্সপ্রেস, টুংগীপাড়া এক্সপ্রেস, বসুমতী ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড ও গাংচিল এক্সপ্রেসসহ একাধিক পরিবহন থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই অর্থ আদায়ের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠদের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে মামুনের বিরুদ্ধে সূত্রমতে, ফুলবাড়িয়ার ১৪/১ কাজী আবদুল হামিদ লেনে অবস্থিত আল হায়াত ম্যানসন মার্কেট নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিনিময়ে প্রায় কোটি টাকার একটি দোকানের মালিকানা কব্জা করেন। একইভাবে সিদ্দিক বাজারের টুকু টাওয়ার মার্কেটও তার নিয়ন্ত্রণাধীন বলে দাবি স্থানীয়দের।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট (আওয়ামী লীগ সরকার পতনের তিনদিনের মাথায়) সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্রসহ এসে চাঁদার দাবিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় এবং নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আতংকের মুখে শুভ বসাক অচেতন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তার কাছে রক্ষিত ১ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং দুই ভড়ি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। এ ঘটনার বিচার চেয়ে সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও মামুন রয়ে যায় অধরা।

স্থানীয়রা জানান, মূলতঃ ২০১০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭০ নং ওয়ার্ডের (বর্তমানে ৩৪) কাউন্সিলর যুবদল নেতা হাজি আহম্মদ হোসেন খুন হবার পর মামুনের উত্থান। এর আগে আহম্মদের ক্যাডার হিসেবে মামুনের অপরাধ জগতে অভিষেক ঘটে। তার বিভিন্ন অপরাধ অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কোথাও অভিযোগ করার সাহস পায়নি। যদি কেউ চেষ্টা করেছে তাকে ‘মব’ আক্রমণের মাধ্যমে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ঘায়েল করা হয়।

 

সম্প্রতি দৈনিক লাল সবুজের দেশ ও পাক্ষিক অপরাধ জগত ম্যাগাজিনের সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর শাখার কল্যাণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মামুনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। মামুন বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই সাংবাদিক রিয়াজের বিরুদ্ধে ডিএমপির বংশাল থানায় কল্পকাহিনী লিখে একটি জিডি করেছেন। জিডি নং-১২৪৮, তারিখ ২৩/৪/২৬। শুধু জিডি করেই ক্ষান্ত হননি, নিজস্ব লোক দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, তথ্য সন্ত্রাস চালানো হয়েছে। এছাড়া ভাড়া করা লোক এনে নিজ অপরাধ আড়াল করতে সংবাদ সম্মেলনের নাটক করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি মামুন বর্তমান বিএনপি সরকার ও দলীয় পদ পদবীকে কাজে লাগিয়ে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন, দলীয় সম্মান মর্যাদা রক্ষায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা যাচাই পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখনই সময়। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন এবং তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। খোদ রাজধানীতে এমন দু’একজনের জন্য দলের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না সেই বিষয়ে দলের সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমন দাবি স্থানীয়দের।